Latest Feed

Login to Post
ভ্রমণ

ফিজিতে দিন কয়েক ৩

@himadrisekhardatta330
20 Sep 2026

ফিজিতে দিন কয়েক

৩

ডোমেস্টিক উড়ানের সময় ছিল সাতটা দশ মিনিটে, নাডি থেকে সুভা, আমাদের যাত্রাপথের শেষ বিন্দু। সঙ্গের ম্যাপটা যদি ভাল করে দেখা যায়, তাহলে এই উড়ান পথ হল উত্তর -পশ্চিম কোন থেকে, পুরো দ্বীপটিকে আধা আধি কেটে দক্ষিণ- পুর্ব কোণে। এই পথটুকু ড্রোনিয়ার ফ্লাইটে (২৬ সিটের) কভার করতে সময় লাগবে, আধ ঘনাডি (Nadi) হলো ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি-র প্রধান প্রবেশদ্বার এবং তৃতীয় বৃহত্তম শহর। এটি ফিজির প্রধান দ্বীপ 'ভিতি লেভু' (Viti Levu)-এর পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এই শহরেই থাকায়, ফিজিতে আসা প্রায় সমস্ত পর্যটকদের প্রথম পদক্ষেপ বা ট্রানজিট পয়েন্ট হয় এই নাডি শহর।পর্যটন ও আখ চাষের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই শহরটি তার বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ, চমৎকার আবহাওয়া এবং স্থানীয় আতিথেয়তার জন্য পরিচিত।সুভা হলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজির রাজধানী, বৃহ এবং প্রধান বাণিজ্যিক ও বন্দর কেন্দ্র।

যদিও সুভাতে, তার নামে কোন এয়ারপোর্ট নেই। আমরা নামব "নওসরি" বলে একটি বিমানবন্দরে। ভারতে, গুজরাটে, নাওসারি বলে, সুরাটের কাছে, একটি জায়গা আছে- যেখানে 'সেকেন্ড হ্যান্ড কার' এর খুব বড় বাজার আছে। এই লেখার সাথে সুভার একটি ভৌগলিক ম্যাপ দিয়েছি - যাতে নওসরির অবস্থান দেখান হয়েছে। ওইখান থেকে, প্রিন্সেস রোড ধরে, গাড়িতে আমরা এলাম সুভার, ওয়াইলোকু বলে একটি স্থানে, যেখানে আমার মেয়ের বাড়ি।

নওসরি তে নেমে, এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে, আগে থেকে ডেকে রাখা, ব্ল্যাক টয়োটা করোলা, আমাদের পিক আপ করে নেয়। ইন্দো- ফিজিয়ান ড্রাইভার- ইংরাজী এবং হিন্দী দুটোই বলতে পারে। প্রায় ২৫ ডলারের মত মিটারে দেখাচ্ছিল। সময় লেগেছে প্রায় ৪০ মিনিট মত।

সিনু, আমার ছোট জামাই, রাস্তাতেই তাদের পোষ্যটিকে নিয়ে, তার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল। আমাদের গাড়ি দেখে, সেও ফিরে আসে, "ফিতুর"-কে সাথে নিয়ে। ফিতুরের সাথে আমার প্রাথমিক আলাপ পরিচয়, বেশ খানিকটা ' who are you, entering my area' গোছের হলেও, ধীরে ধীরে তা শান্তই হয়ে যায়। আজকে এই লেখার সময়, ও আমার পাশে বসে আছে চুপ করে।

এত্ত বড় লম্বা জার্নি সফল ভাবে করতে পারার জন্য, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। একটু কনফি ভেতরে আসছিল। যাই হোক, আজ লম্বা রেস্ট নিতে হবে। সাড়ে ছয় ঘন্টার সময়ের আগে চলায়, ঘুম, বাথরুম এবং জেট ল্যাগ সব কিছু অ্যাডজাস্ট করতে আজ আর আগামীকাল লাগবে। এখানে আসার ঠিক আগে, ভার্টিগো-র মাইল্ড সিমপটন দেখা দিয়েছিল। তার জন্য দিনে রাতে মিলিয়ে, পাঁচ দিনে ১৫টা ভার্টিন-১৬ খেতে বলেন। আমি অবশ্য, খাই নি। লম্বা জার্নির আগে ১ খানা মাত্র।

যাক গে, স্নান করে, কিছু খেয়ে, আমি আমার জন্য নির্দিষ্ট করে গুছিয়ে রাখা ঘরে, বিছানায় চলে আসি। আপনা থেকেই ঘুম এসে যায় - যা আমার জন্য অপ্রত্যাশিত। কি জানি, ঘরের ভাইব খুব পজিটিভ অনুভুত হচ্ছিল।

শেষ বিকেলে ঘুম ভাঙে। চা পান হল। জায়গাটা নিয়ে আলোচনা, সামনে কি কি এবং কোথায় প্রোগ্রামে যাওয়া হবে, তাই নিয়ে কিছুটা আলোচনা হল। বড় মেয়ে, অ্যাডিলেড থেকে, এই মাসেরই ১৯ তারিখ ফিজি আসছে। আমার সাথে দেখা করার জন্য। সত্যি, এমন ক'জন বাপের ভাগ্যে হয়। আমার সত্যিই আর কিছু চাইবার নেই ঈশ্বরের কাছে - শুধু যদি, আমার সহযাত্রীনী, আমার স্ত্রী-ও এই মওকায় হাজির থাকতেন, তাহলে ১৬- কলা পূর্ন হত। মানুষ ভাবে এক, ঘটে আরেক। এই আমাদের নিয়তির বিধান। জানি না, ঈশ্বরের সকল কাজ ভালোর জন্যেই হয়- আমরা তো পুতুল মাত্র- তবে এই বেদনার সুরে ভরা মিলনের ঘটনা, কি ভাল আনবে, কার জন্যে? ঈশ্বরই জানেন।

পরের দিন আবহাওয়া বৃষ্টি বাদল ভরা ছিল। ছোট মেয়ে সকাল সাড়ে আটটায়, অফিস বেরিয়ে গেল। আমি আটটায় উঠে গেছিলাম এবং গুড সাউন্ড স্লিপের পর। কলকাতায় এমন ঘুম হয় না কেন? কে জানে!

আজকে ঘরেই থাকা। সকালে আমার স্পন্ডিলাইটিসের সামান্য অসুবিধা হচ্ছিল, মাথা, ডাইনে- বাঁয়ে ঘোরাতে গিয়ে। তাই রেস্ট ডে করা হল।

বাড়িতে বসে, চা বিস্কুট খেয়ে, ভাবলাম, কেখা শুরু করব, এই চলতি বেড়ানো নিয়ে। তাই ফিজি সম্বন্ধে, মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে যা বইপত্র পেলাম,তাই নিয়ে নাড়া চাড়া শুরু করি। কিন্তু ভূতত্ত্বের পোকাটা সব সময়ই সজাগ থাকে - সেটা সেন্টোরিনি হোক, কি সুভা অথবা হংসেশ্বরীর কাছে ত্রিবেণী ঘাট। ফিজি সেই তুলনায়, জিওলজিক্যালি বিশেষ প্রাইম জায়গা।

আমি বুঝি, পাঠকের এই জিওলজি নিয়ে কোন আগ্রহ নেই, এই অংশটা তারা বাদই দেবেন। কিন্তু আমি ভূতত্ত্বের কাছে অন্তহীন ভাবে ঋণী- তাই যে ল্যান্ডমাসে এসে নেবেছি, থাকছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি, গত চার বছর ধরে, আমার মেয়ে এখানে কাজ করছে - সেই দ্বীপের জন্ম রহস্য, জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে সামান্য উল্লেখ রাখা দরকার। আমি চেষ্টা করছি, সাবজেক্টের জারগন বাদ দিয়ে, সাধারণ ভাবে বলতে।

ফিজি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে, নিউজিল্যান্ডের উত্তর-পূর্বে এবং হাওয়াইয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি অন্য কোন দেশের সাথে স্থল সীমানা ভাগ করে না। দেশটি প্রায় ১৮,২৭৪ স্কো.কিমি (৭,০৫৬ স্কো.মাইল) এলাকা জুড়ে রয়েছে। দুটি বড় দ্বীপ নিয়ে - প্রধানত: ফিজির ভৌগলিক অবস্থান। ভিটি লেভু আর ভানুয়া লেভু।

ভিটি লেভু: ভিটি লেভু হল ফিজির বৃহত্তম দ্বীপ, যা দেশের মোট ভূমির অর্ধেকেরও বেশি। এই অঞ্চলটি ১৩২৪ মিটার (৪৩৪৪ ফুট) এ দাঁড়িয়ে থাকা দেশের সর্বোচ্চ শিখর, মাউন্ট টোমানিভি সহ একটি কেন্দ্রীয় পর্বতশ্রেণী সহ একটি রুক্ষ ভূখণ্ড দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বীপের পূর্ব দিকে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়, যা গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্টকে সমর্থন করে। বিপরীতে, পশ্চিম দিকে, মধ্য পর্বতের বৃষ্টির ছায়ায়, শুষ্ক তৃণভূমি এবং আখের ক্ষেত রয়েছে। অবশেষে, সিগাতোকা নদী ফিজির অন্যতম প্রধান নদী এবং এটি এই দ্বীপের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ভানুয়া লেভু: ভিটি লেভুর উত্তরে ফিজির দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ভানুয়া লেভু অবস্থিত। ভিটি লেভুর তুলনায় কম পাহাড়ি হলেও এই দ্বীপের অভ্যন্তর রুক্ষ। ভানুয়া লেভুতে সবচেয়ে বড় ড্রেকেটি নদী তার ল্যান্ডস্কেপের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে। ভানুয়া লেভুর উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে, এবং তার আশেপাশের জলে, ছোট ছোট প্রবাল প্রাচীর রয়েছে। দ্বীপটির অভ্যন্তরীণ অংশটি মূলত: গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্ট এবং নারকেল বাগানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত, যা নিয়ে ফিজিয়ানিরা গর্ব করে।

কিন্তু সুবিশালসাবডাকশন-সম্পর্কিত আগ্নেয় দ্বীপমালা—অর্থাৎ একটি মহাসাগরীয় প্লেট অন্য একটি প্লেটের নীচে ঢুকে যাওয়ার ফলে ম্যান্টলে উৎপন্ন ম্যাগমা ওপরে উঠে আগ্নেয় দ্বীপ( volcanic island) ও দ্বীপ-আর্ক(island arch) তৈরি করেছে। পরে আগ্নেয় শিলাগুলিতে ক্ষয়( erosion),ভূত্বকের ওঠানামা, সমুদ্রতলের বিস্তার, চুনাপাথর ও প্রবালপ্রাচীরের গঠন—এই সব প্রক্রিয়া ফিজির বর্তমান রূপ নির্ধারণ করেছে। ফিজির প্রাচীনতম identified শিলা প্রায় ৩৫–৪০ মিলিয়ন বছর পুরোনো, অর্থাৎ ভূতাত্ত্বিক টাইম স্কেলে Late Eocene যুগের।

ওয়ান মিলিয়ন = ১,০০০,০০০ অর্থাৎ দশ লক্ষ বছর।

তার মানে, আজ থেকে (৩৫- ৪০)xদশলক্ষ =  ৩,৫,০০০,০০০ বছর আগে, প্রশান্ত মহাসগরীয় পৃথিবীর এই অংশে ফিজি দ্বীপপুঞ্জ, আগ্নেয়গিরি দ্বারা প্রসূত হয়েছিল। অর্থাৎ সাড়ে তিন কোটি বা ৪ কোটি বছর আগে।

লেট ইওসিন (৫৬-৩৫ মিলিয়ন বছর আগে): প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট, অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের নিচে ধাক্কা দিয়ে পশ্চিম ভিটি লেভুতে গঠিত প্রাচীনতম দ্বীপ-আর্ক আগ্নেয় শিলা।

অলিগোসিন এবং মাইয়োসিন (৩৪-৫.৩ মিলিয়ন বছর আগে): গভীর ভূত্বক কার্যকলাপ, কোলো প্লুটোনিক স্যুটের মতো ম্যাগম্যাটিক অনুপ্রবেশ এবং প্লেটের সীমানা স্থানান্তরিত করার ফলে মূল ল্যান্ডমাসগুলিকে আকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

প্লাইয়োসিন থেকে প্লাইস্টোসিন (৫.৩ মিলিয়ন–১১,৭০০ বছর আগে): টেকটোনিক উত্থান প্রাচীন প্রবাল প্রাচীর এবং পাললিক আমানতকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে ঠেলে দিয়েছে।

হোলোসিন (১১,৭০০ বছর আগে থেকে আজকের বর্তমান): আধুনিক প্রবাল প্রাচীর এবং উপকূলীয় সমভূমি বিকশিত হয়েছে। কিন্তু সেই সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কার্য্যকলাপ এখনও তাভেউনির মতো দ্বীপগুলিতে অব্যাহত রয়েছে।

ফিজি দ্বীপপ৩৩২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ: এর মধ্যে প্রায় ১০৬টি দ্বীপে মানুষ বসবাস করে।

প্রধান দ্বীপসমূহ: ফিজির সবচেয়ে বড় দুটি দ্বীপ হলো ভিটি লেভু (Viti Levu) ও ভানুয়া লেভু (Vanua Levu)।

আশা করি, পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হয় নি। সাড়ে তিন কোটি বৎসর আগে, যে দ্বীপ সমুদ্রের জলরাশির ওপরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছিল, তাতে বসবাসের জন্য মানুষ পৌঁছেছে, মাত্র ৩৮০০- ৩৫০০ বৎসর আগে। ভাবা যায়? সেই রকম এক স্থলভূমিতে, আমি এসেছি। থাকছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি। পৃথিবীর কাছে, এই প্রাপ্তি, একরকম আমার ঋণই বটে। ফিজির মানুষের অতীত, তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক ছিঁটে কষ্ট- মেহনত,অসুখ, অত্যাচার, কিছু না সয়েই, আমি এখানে রাজার হালে ঘুরে বেড়াচ্ছি।


❤️ 1 💬 0
Read Full Post »
গল্প

প্রিয় সাহিত্যিক

@prochaarmuluk
20 Sep 2026

ওয়াটার-ফিল্টারওয়ালাটাকে বিদায় করে আবার চেয়ারে এসে বসলাম। সামনের পুজোবার্ষিকীতে ভৌতিক উপন্যাসটা দিতেই হবে। ওটাই নাকি বাজারে খাচ্ছে আজকাল। পত্রিকা সম্পাদকের চাহিদা। কিন্তু ভূত তো আমার বিষয় নয়। আমি তো সামাজিক উপন্যাস লিখি। মানুষের সম্পর্ক নিয়ে। আত্মীয়তা নিয়ে। প্রেম নিয়ে। ভূতের জগতে কি সেসব আছে? একবার ভেবলুদাকে জিজ্ঞেস করলে হয়। ভেবলুদা খুব বড় সাহিত্যিক। মনটা খুব ভালো। আমাদের মত ছোটখাটো লেখকদের খুব উৎসাহ দেন। তথ্য দিয়ে সহায়তাও করেন। শুধু একটাই মুশকিল... খুব মুডি। আপনারা তাঁকে যদিও ভেবলুদা নয়। অন্য নামে চেনেন।

করোনার বার্তা শেষ হওয়ার পর রিং হচ্ছে। মানে কলার টিউন বাজছে। আজব মুডি লোক মাইরি... এত বড় লেখকের কলার টিউন “ও লড়কি আঁখ মারে”!

         -হ্যালো!

-ভেবলুদা! সৌরভ বলছি গো...

-কোন সৌরভ? কত নম্বরের?

আমারই ভুল! আমার নামে এমন কি এক পদবীতে ভেবলুদার অনেক চেনা মানুষ আছে।

         -সৌরভ। ওয়ান-ডব্লু-এইচ (এক নম্বর – রাইটার – হাওড়া)

-কোথায় ছিলি এদ্দিন? দরকার ছাড়া আসতে নেই?

-একদম বেরোচ্ছি না গো।

-করোনা ধরার ভয়ে?

-জানোই তো সব। অ্যাজমার রুগী।

-বল কি ব্যাপার! ফোন করেছিস কিছু দরকার নিশ্চয়ই আছে! বাড়িতে সব ভালো তো?

-হ্যাঁ... সব ঠিকঠাক। বলছি একটা ভূতের গল্প লিখতে হবে। কি করি বলতো?

-কী আবার করবি। লিখে ফেল।

-একটু বলো না। কি পড়ব? আমি তো ভূতের গল্প লিখিনি।

-নিজের জীবনী লেখ।

-অ্যাঁ!

-তুই নিজেই তো একটা ভূত। নিজের কোনো একটা কীর্তি লিখে দে। যাকগে আমায় এখন বেরোতে হবে। ছাড়লাম।

-হ্যালো হ্যালো !

যাহ্‌ কেটে গেল। না... দিল। অদ্ভুত মুডি লোক মাইরি।

কী লিখি কী লিখি! ধুত্তোর। কিচ্ছু প্লট আসছে না।

মোবাইলটা বেজে উঠল।

-হ্যালো।

-সৌরভ বলছেন?

-হ্যাঁ!

-আমি কীর্তিমান দাস।

-বলুন।

-আমি আপনার পাড়াতেই থাকি। মেখলাপুরের মোড়টার দিকে।

-বেশ। বলুন কি দরকার?

-আপনাকে একবার আসতে হবে স্যার।

-কেন?

-আমার বাড়িতে একটা ছোট্ট সাহিত্যসভা করছি স্যার। আপনাকে চাই স্যার...

-সাহিত্য সভা... আমি... মানে...

-আমি জানি স্যার আপনি বিখ্যাত লেখক। প্রতি ম্যাগাজিনে যেখানে যেখানে আপনার লেখা বেরিয়েছে সব আমি পড়েছি। আপনার লেখা দুটি বইও আমার সংগ্রহে আছে। তিন নং বইটা নেই। সেটা নিয়ে একবার আসবেন স্যার প্লিজ? উপযুক্ত দামই দেব স্যার। আমি নিজেই যেতাম। কিন্তু বিশেষ কারণে অপারগ। আপনি সেটা নিজেই বুঝতে পারবেন।

-আপনাকে চিনি না, জানি না। হঠাৎ করে আমি কি ভাবে যাব? সেটা সম্ভব নয় সেটা নিশ্চয়ই বোঝেন আপনি।

-আপনি আসুন স্যার। কিচ্ছু চিন্তা নেই। প্লিজ আসুন। খুব দরকার আপনাকে।

-আমি তেমন কেউকেটা নই।

-সে বললে মানব না স্যার। একবারটি আসুন।

-হবে না।

ফোনটা কেটে দিলাম। যা ইচ্ছে সব আবদার করে। আমি এসব সাহিত্যসভায় এমনি এমনি চলে যাব? তাও আবার ফোনে এই ভাবে বললেই হল নাকি!

নাহ লেখা এখন হবে না। একটু পড়াশোনা করি।

 

-আহ... উহ... বেওট্টে না ... আ আ... ডালা কওট্টে...

-উফ! তখন থেকে বললাম মন দিয়ে খাও। কাঁটাটা বেছে খেতে বললাম। খেতে বসে বই পড়া চাই। দেখি টর্চটা ফোকাস করতে দাও... মাড়িতে আটকে আছে বলছ তো। দাঁড়াও চিমটে দিয়ে তুলতে দাও। ছটফট করো না।

খেতে বসে ভূতুড়ে বাড়ির ইতিহাস নিয়ে একটা বই পড়ছিলাম। মাছের কাঁটা আটকে গেছে মাড়িতে। উফ। আর মাছ খাবনা। এবার স্রেফ ডিম আর মাংস। মহা জ্বালা।

-মাছটা তো ছাড়িয়ে দিতে পারতে!

-তোমার লেডি ফ্যানেরা জানতে পারলে সম্মান থাকত? এত বড় লেখক! বউ মাছের কাঁটা ছাড়িয়ে দেয় !!!

-ইয়ার্কি কোরো না তো। এদিকে একটা ভূতের উপন্যাস লিখতে পারছি না।

-মন দিয়ে খেয়ে নাও। তারপর বইটা খুলবে।

ফোনটা বেজে উঠল।

 

-স্যার খেয়ে উঠে একটু ভেবে দেখুন না স্যার... একবারটি আসুন না প্লিজ।

-কে?

-আমি স্যার! কীর্তিমান দাস।

-আপনি! আপনি কি করে জানলেন আমি খেতে বসেছি!

-আন্দাজে স্যার। এখন তো সাধারণত বাড়িতে থাকা মানুষরা খেতে বসে। স্যার। একবারটি আসুন।

-আমি বললাম তো এই ভাবে আমি যেতে পারি না।

-স্যার সুযোগ থাকলে আপনাকে আমি নিজে গিয়ে আমন্ত্রণ করতাম। এক সময় আমার বাড়িতে কত সাহিত্য সভা হয়েছে। এখন আর কিচ্ছু হয় না স্যার। স্যার একবার আসুন। খুব দরকার স্যার।

-কবে? (একটু বিরক্তি ভরেই বললাম)

-আগামীকাল স্যার।

-আগামীকালই! আচ্ছা! আর কে আসবেন?

-আসবেন স্যার আরও দুইজন। নির্মল সাধুখাঁ আর অনুভূতি সরকার। আপনি তো স্যার আমার পাড়ার মানুষ। বিশেষ কারণবশত আমি নিজে যেতে পারছি না। আপনাকে নিয়ে আসা উচিত ছিল। একটু কষ্ট করে যদি আপনি নিজেই যদি আসেন খুব উপকৃত হই। প্লিজ স্যার। আগামীকাল ৬টা নাগাদ।

কি করি! পাড়ার মানুষ। রাজী হলাম।

- ঠিক আছে কাল যাব। আপনি বাড়ির ঠিকানাটা আমাকে হোয়াটস্‌অ্যাপ করে রাখুন।

-ঠিক আছে স্যার। ঠিক আছে। আমি এখনই আপনাকে হোয়াটস্‌অ্যাপ করে দিচ্ছি।

 

-কে গো?

-আরে কে এক কীর্তিমান দাস। সকাল থেকে জ্বালিয়ে যাচ্ছে। সাহিত্যসভা করছে। এই সামনের মেখলাপুর মোড়েই থাকে। এই করোনা পরিস্থিতিতে কারও বাড়ি যাওয়া উচিত না। তাও বার বার বলছে একবার আসুন।

-তা যাও না একবার। পাড়ার মানুষ তো। নামটা চেনা চেনা লাগছে। মেখলাপুর মোড় মানে... পোস্টাফিসের কাছে? অধিরাজ দাসের বাড়ি?

-জানি না। কে অধিরাজ দাস?

-শুনেছি দেওয়াল কবিতা লেখেন। মারা গেছেন কয়েকবছর আগে। ওই মেখলাপুর দেওয়াল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা।

-অধিরাজ... অধিরাজ... ওহ্‌... হ্যাঁ পড়েছি। কেষ্টার চায়ের দোকানের একটা পুরনো ছেঁড়া দেওয়াল পত্রিকা তো? সে তো খুব পাতি লেখা।

-তা হবে। তবে খুব উৎসাহী মানুষ ছিলেন নাকি। একটু পাগলাটে।

-যাকগে! কাল যাব বলেছি। গিয়ে দেখব কী ব্যাপার।

-মাস্ক পরে যেও আর একটু দূরে দূরে দাঁড়িও।

-হ্যাঁ জানি জানি। কাঁটাটা ব্যথা করছে এখনো।

-একটু পরেই কমে যাবে। বিকেলে গরম নুনজলে একটু গার্গল করে নিও।

 

পরদিন হোয়াটস্‌অ্যাপের ঠিকানা দেখে গেলাম। লেটেস্ট বইটাও একটা ছোট্ট ব্যাগে ভরে সঙ্গে নিয়ে নিলাম। যতই হোক... ফ্যান বলছে যখন... অটোগ্রাফ করে দেওয়া যাবে বেশ। সাহিত্যসভার ছবি তুলবে, ফেসবুকে দেওয়া যাবে। মেখলাপুর মোড় আমার বাড়ি থেকে বেশী দূর নয়। হেঁটে মাত্র ১৫ মিনিট। লকডাউনে সেই যে বাড়িতে বসেছি, বাড়িতে বসে বসে মোটা হয়ে যাচ্ছি। তাই হেঁটেই গেলাম। নম্বর দেওয়া বাড়ির সামনে গিয়ে ... ফোন করব? নাকি কলিং বেল টিপব? একটা টস করি? আচ্ছা কলিং বেলটাই টিপি।

কলিং বেল কাজ করল না। বাটন টেপার পর কোন আওয়াজ তো শুনতে পেলাম না। বেশ কয়েকবার করলাম। নাহ্‌ কোনো শব্দ নেই। খারাপ নাকি? তাহলে তো ফোনই করতে হবে।

ধুত্তোর। করোনা বার্তা শোনার পর বলে কিনা, এই নাম্বারটি সাময়িক ভাবে বন্ধ আছে। কী জ্বালা কালই তো ফোন করল। হোয়াটসঅ্যাপ দেখি। একি! লোকটা লাস্ট সিন দেখাচ্ছে গত সপ্তাহে! আজব সব। নাহ্‌ এতেও কিছু হচ্ছে না। কি করি?

পাশের বাড়িতে কলিং বেল টিপলাম।

 

দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন এক টাকমাথা ভদ্রলোক।

-কাকে চাই?

-দাদা এই পাশের বাড়ীর ভদ্রলোক আমাকে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু বেল বাজাচ্ছি কেউ খুলছে না। ফোন করছি, লাইন পাচ্ছি না। একটু দেখবেন? মানে আপনাদের সঙ্গে আলাপ আছে কিনা জানি না।

-আলাপ তেমন ছিল না দাদা। ওনার বাবা অধিরাজবাবু মারা গেছেন গত দু-তিন বছর হল। তারপর থেকেই আর... একটু ছিটেল লোক কিনা। গত কয়েক দিন দেখতেও পাইনি। বাড়ি থেকে বাজার দোকান ছাড়া বিশেষ বেরোতেন না। ইদানীং তো সেটাও সম্ভব ছিল না। বলতে পারব না। দেখুন আরো কয়েকবার ফোনেই চেষ্টা করুন।

আরও কয়েকবার ফোনের চেষ্টা করলাম। পেলাম না। ফিরে যাব? কিন্তু লোকটা যে বলল সাহিত্যসভা!

 

হঠাৎ দরজা খুলল। কিন্তু দরজার আড়ালে কাউকে দেখতে পেলাম না।

 

-ভেতরে আসুন স্যার। আসলে এই জুতোর র‍্যাকটা উল্টে গেল। আপনি ভেতরে আসুন।

দরজা ঠেলে ভেতরে একটা অন্ধকার সরু প্যাসেজ। তারপর একটা আলোকিত ড্রয়িংরুম। পাশে একটা পুচকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে একটা ঘর। দোতলা নয়। আর ডানদিকে রান্নাঘর বাথরুম আর একটা ঘর। ড্রয়িংরুমে একটা সোফা একটা রাইটিং টেবিল চেয়ার। আর দেওয়ালে র‍্যাককরে রাখা... প্রচুউউউউর বই। নাহ। একটা দেওয়ালও বাকি নেই। শুধু ছাদে ও বাবা... ছাদেও বই... না পুরোটা জুড়ে নয়। ব্যাগে করে ঝুলিয়ে রাখা আছে। এ তো দেখছি বই পাগল। বই বিক্রেতা ও লেখকদের প্রিয়পাত্র হবে এই লোকটা। কিন্তু ভদ্রলোক কোথায় গেলেন। দরজা খুলে ভেতরে এসে দেখছি কেউ তো নেই।

সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলেন ভদ্রলোক। হ্যাঁ। হোয়াটস্‌অ্যাপ পিপিতে যেমন দেখলাম তেমনই। মাথায় পাতলা হয়ে আসা চুল। রোগা হয়ে আসা গাল। একটা কাঁচাপাকা হালকা গোঁফ। হাই পাওয়ার চশমা। চোখের পাশটা একটা কাটা দাগ। মাঝারি হাইট। রোগা। একটু অসুস্থই মনে হল।

-কই আর কেউ আসেনি।

-হ্যাঁ। আসবেন! আপনিই প্রথম এলেন। বাড়ি চিনতে অসুবিধে হয়নি তো স্যার।

-না না, এই তো কাছেই।

-হ্যাঁ স্যার। কাছেই।

 

একটু চুপ করে থেকে বললেন আবার ভদ্রলোক, - স্যার! বইটা এনেছেন?

-হ্যাঁ। বলে বইটা ব্যাগ থেকে বার করে দিলাম।

-সই করে দিন স্যার। আমি মূল্য দিয়েই কিনব।

-না না ঠিক আছে। দাম লাগবে না। আপনি নিন।

-ধন্যবাদ স্যার। আমি ধন্য হলাম স্যার।

একটা সই করে বইটা দিলাম ওনাকে। ওনার মুখের আলোকিত ভাব দেখে খুবই আনন্দ পেলাম। সাহিত্যিকদের এটাই বড় পাওয়া। দামটা নিলে অবশ্য ভাল হত। কিন্তু! ভদ্রতা করে আর... যাকগে...

দরজায় ঠক ঠক শব্দ।

-ওই ওনা রা এলেন হয়ত।

কীর্তিমানবাবু দরজা খুলতে গেলেন। একটু পরে দেখি নির্মল সাধুখাঁ আর অনুভূতি সরকার দুজনেই হাজির। আমার সঙ্গে দুজনেই পূর্ব পরিচিত। ওনারা শখের লেখক। পেশাদার নন। কিন্তু বড় ভাল লেখেন। অনুভূতি সরকার তো ছোটদের জন্য অনবদ্য ছড়া লেখেন।

ওঁরা আসতে না আসতেই ওঁদের থেকেও কীর্তিমানবাবু বই উপহার নিলেন।

নির্মলদা এগিয়ে এলেন – আরে সৌরভ যে! কী খবর? কেমন আছিস?

স্বল্পভাষী অনুভূতিও এগিয়ে এসে কুশল সংবাদ নিলেন।

- কীর্তিমানবাবু। আমরা এই চারজনেই? নাকি আরও লোকজন আসবে?

-আর কেউ আসবে না বোধহয়। বিশেষ কাউকে বলিনি। কয়েকজনকে বলেছিলাম কিন্তু তারা উৎসাহ দেখায়নি। আপনারা বসুন। আমি একটু উপর থেকে আসছি। বইগুলো নিয়ে উনি উপরে চলে গেলেন।

আমরা কথা বলতে থাকলাম। নির্মলদা আড্ডাবাজ লোক। এত কম লোকের সাহিত্যসভা বলা চলে কি? শুধু আড্ডা বলা চলে।

 

কিন্তু... তারপর?

কথা বলতে বলতে খেয়াল করিনি। প্রায় আধঘণ্টা হয়ে গেল কীর্তিমানবাবু উপরের ঘরে গেলেন। এখনো এলেন না তো?

-কীর্তিমানবাবু কোথায় গেলেন?

-কীর্তিমানবাবু!

-ও দাদা। কিছু অসুবিধা হল নাকি?

কোনও উত্তর নেই।

একবার উপরে গিয়ে দেখবে নাকি নির্মলদা। দেখছি তো উনি একা থাকেন। যদি মাথা ঘুরে গিয়ে থাকে।

চল তো দেখি একবার।

আমরা উপরে গেলাম।

দরজাটা বন্ধ।

ঠেলতে গেলাম। খুলল না।

আবার ধাক্কা দিলাম। নাম ধরে আমরা তিনজনেই ডাকলাম। নাহ কোন উত্তর নেই।

কী করি?

দরজা ভাঙব নাকি?

নির্মলদাই দরজায় ধাক্কা দিলেন।

আশ্চর্য! এবার দরজাটা খুলে গেল।

না, কেউ ভেতর থেকে খুলে দিল না। এমনিই খুলে গেল।

গন্ধটা তখনই নাকে এল।

একটা পচা গন্ধ।

ঘরে একটা দেহ। পচাগলা। মুখটা হালকা আলোয় দেখলাম।

কীর্তিমানবাবু!

কিন্তু!

এ কী করে সম্ভব?

আমরা দৌড়ে উপর থেকে নিচে, নিচে থেকে বাইরে বেরিয়ে এলাম। হই হল্লা করে প্রতিবেশীদের ডাকলাম! পুলিশ...

বাবা মারা যাওয়ার পর উনি একাই থাকতেন। বিয়ে করেননি। একটু পাগলাটে গোছের ছিলেন। বইপত্তর নিয়েই থাকতেন। পাড়া প্রতিবেশীরা ওনাকে এড়িয়ে চলত। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে আরো একা হয়ে গিয়েছিলেন। তাই উনি মরে পড়ে ছিলেন একা। কেউ জানতেও পারেনি।

তাই কি উনি আমাদের এই ভাবে... মৃত্যুর পরেও প্রিয় লেখকদের বই সংগ্রহ করলেন।

কিন্তু আমাদের সব কিছু শুনে কেউ বিশ্বাস করল, কেউ করল না। কিন্তু আমরা স্পষ্ট দেখেছিলাম... দেহের পাশে রাখা ছিল আমাদের সইকরা তিনটে বই।

 


❤️ 3 💬 3
Read Full Post »
রম্য

খুচরো গপ্প

@Sharmistha
20 Sep 2026

হোয়া তে কত রকম লেখা পত্তর ঘুরে বেড়ায়! পড়তে বেশ লাগে। আমি ফাঁকিবাজ সংসারী। কাজের মধ্যে দুই, না না, খাই আর শুই না, রান্না করি আর খাই, কাজেই আমার কাছে অঢেল সময় মোবাইলের জগতে ঘুরে বেড়ানোর। 

মাত্র গোটা দশেক গুড মর্নিং পাঠানোর পর আমার সকাল শুরু। সেটা ঘুম চোখে করলে হবে না তাই বলে। শাশুড়ি মায়ের টা শ্বশুর বাড়ির অন্য কাউকে পাঠানো যাবে না, কাকা এবং অন্যান্য বয়স্ক আত্মীয়বন্ধুদের ভগবানের ছবিযুক্ত গুডমর্নিং, ফুল ভালবাসা মানুষটিকে ফুলসহ গুডমর্নিং, আবার শিলিগুড়ির গ্রুপ এ থাকা শিলিগুড়ির বন্ধুকে গ্রুপে পাঠানো একই ছবি পাঠানো যাবেনা, স্বামী-ইস্তিরির আঁশটে গন্ধওয়ালা উইশ আবার পঞ্চাশোর্ধ দূরের বান্ধবীকে পাঠানো যাবেনা, যাঁর সাথে ফেসবুকে‌ আলাপ...এসব নানান ব্যাপার। হোয়া আমার মতো বেকার, ফোন সর্বস্ব মানুষদের জন্য খুব উপকারী।

  তো যে কথা বলার জন্য এত ভণিতা,  দিদি শাশুড়ি অনেক মিম এবং অণুগল্প পাঠিয়েছিলেন। তার রিপ্লাই আমি দিলাম সুদূর ব্যাঙ্গালোর থেকে ভেসে আসা ততোধিক হাস্য উদ্রেককারী লেখা ফরোয়ার্ড করে দিয়ে। এই তো করি। এদিকের টা ওদিকে, ওদিকের টা এদিকে। তা, স্বামী স্ত্রীর নির্ভেজাল সম্পর্কের ওপর তারাপদ রায়ের এক গপ্প পড়ে দিদি শাশুড়ি বললেন, 'হ্যাঁরে, স্বামীরা বোধহয় খুব ইনসিকিওরিটিতে ভোগে.......!' তার উত্তর দেওয়ার লোভ আর সামলাতে পারলাম না, 'কিসের ভাত বসানো, কিসের কি! আগে তো টাইপ করি' এই মনোভাব নিয়ে মোবাইল আঁকড়ে বসে গেলাম। তিনি বসার ঘরে অফিসে। সোফায় বসে ইতালির মিচেল কে নেদারল্যান্ডস এ পাঠানোর তোড়জোড় করছেন হায়দ্রাবাদের সঞ্জুর সাথে পরামর্শ করে! এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর রেপ্লিকায় থেকে বেশীক্ষণ মোবাইলে চোখ রাখলে পাপ বোধ হয়। তাই বারান্দায়, রোদ্দুরে চলে গেলাম টুক করে। উত্তরটা পরের প্যারায়। 


"না না! কিসের ইনসিকিওরিটি! বিয়ে হয়ে যাবার পর বরং মেয়েটারই গরজ স্বামী এবং তার পরিবারকে তুষ্ট করে রাখা। অন্যরকম হলেই আমরা মেয়েটাকে বাঁকা চোখে দেখি।" শাশুড়ির নাতিটিকে যে আদরে-বাদরে রেখেছি সেটা বোঝাতে হবে। “তবে বয়সের সাথে সাথে স্বামীর চরিত্রের পরিবর্তন হয় বলে মনে হয়। যা দেখে বড় হয়েছি আর কি! বিয়ের পর মা আর বউ এর মাঝে পড়ে দিশেহারা স্বামী, মা-বউ এর ঝামেলায় অতিষ্ট স্বামী, মায়ের কড়া শাসনে দড়কচড়া হয়ে যাওয়া ভীতু স্বামী, সুন্দরী বউ এর প্রেমে ডুবে থাকা গদগদ স্বামী, বস্ এর কাছে চাপ খেয়ে বউকে ট্রিপল চাপ দেওয়া জানোয়ার স্বামী, বড়লোক বাবার দজ্জাল মেয়ের শহীদ স্বামী, মায়ের কাছে আশ্রয় পাওয়া বেচারা স্বামী, বউ-মা উভয়কে জ্বালিয়ে খাওয়া অপোগন্ড স্বামী....আরো কত! অষ্টত্তর শতনাম হয়ে যাবে। এরা হলো সব ইয়াং স্বামী। এর পর আসে পরিণত স্বামী। এরা সংসারের ঝামেলা পাঁকাল মাছের মতো এড়িয়ে চলতে শিখে গেছে। মা আর বউ নিয়ে দিব্যি পিং পং বলের লোফালুফি। স্বামীরা এখন বেশ চালাক। তারা 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' মন্ত্র অ্যাপ্লাই করে দিন কাটায়। খেতে বসে রাত্তিরে মায়ের কাছে গোপনে বউএর চাট্টি নিন্দে করে ধপাস করে বিছানায় পড়ে বউকে চকাস চুমু। 'সোনা গো, সারাদিন খুব ধকল গেছে' বলেই নাক ডাকিয়ে ঘুম। স্বামীর বাবা সংসারে থাকেন 'বাবা রামদেব' হয়ে, মোহমুক্ত, তবে মধুমেহ নিয়ে।  এভাবে বছর দশেক ফ্রুত! তার মাঝে যে কখন ছেলে পুলে, আন্ডা বাচ্চায় ঘর ভরে যায় কেডা খপর রাখে! স্বামীর দায়িত্ব বাড়ে, সেই অনুপাতে বাড়িতে থাকার সময়ও কমে। স্বামী বাইরে এগরোল সাঁটিয়ে দিব্যি সোনামুখ করে আলুচচ্চড়ি আর রুটি খেয়ে শুয়ে পড়ে। আর অবসরের পর স্বামীর আরো কত রূপ! সারাজীবন হাড়জ্বালানে কেউ হয়ে যায় আঁচলধরা ন্যাওটা, আবার কারো বাড়ে কুলোপানা চক্কর! তবে ঐ ফোঁসফোঁসানিই সার। বিষদাঁত ঘষে ক্ষয়ে গেছে কবেই। বেশীরভাগ স্বামী তখন চরম বউ ভক্ত। শীতের রাতে গুটিসুটি মেরে বউএর কাছে গান ধরে, 'আমরা দুটি ভাই, শিবের গাজন গাই', বাতে ধরা বউ তখন দুবলা পায়ে লাথি মেরে স্বামীর মাজা ভাঙবে নাকি 'আহা, প্রাণনাথ' বলে থুতনি ধরে উড়ো চুমু খাবে সেটা তার ব্যাপার।"


দিদি শাশুড়ি পড়ে বিশাল মজা পেলেন। হাসির ইমোজি আর সাধুবাদ পেয়েছি।🤭😁😁 আর 'তিনি' পড়ে কি বলবেন সে দেখা যাবে। রেগে মেগে মঙ্গলগ্রহেও পাড়ি দিতে পারেন। আর একটা কথা বলে বিদেয় হচ্ছি। অনেক কাল আগে যখন প্রাত্যহিকীতে লেখা পাঠাতাম তখন‌ অনেক জায়গা থেকে চিঠি, লিট ম্যাগ আসতো। একবার এলো একটা ছোট কাগজ। চারপাতার। কাগজের শিরোনামে লেখা 'পীড়িত পুরুষ পতি পরিষদ'! আমার কাছে কেন এসেছিল জানিনা! তখন অবিবাহিত, পীড়ন টীড়ন কাউকে করিনি মোট্টে! পরের বার শিলিগুড়ি গেলে খুঁজে নিয়ে আসব'খন। তখন কেউ চাইলে দিতে পারবো। ততদিন একটু ধৈর্য ধরে থাকুন। রাগ টাগ করবেন না যেন!




❤️ 1 💬 4
Read Full Post »
রম্য

গরম চা

হাসিবুর রহমান
20 Sep 2026

এককালে বাস স্ট্যাণ্ডের ধারে চায়ের দোকানে যারা প্লেটের উপর কাপ রেখে চা খেত, গ্রামের ছাপোষা মানুষেরা তাদের 'বাবু' বলে সম্বোধন করত। মফস্বল বা শহরের শিক্ষিত, বিত্তবান এমনকি মাঝারি সাইজের দোকান চালাতো যারা তারাও 'বাবু' ছিল। সেকালে গ্রামের কারোর হাতে দুপয়সা এলে একটু ভালো জামাকাপড় পরলে লোকে বলত (তাচ্ছিল্য করেই) একেবারে 'বাবু' হয়েগেছিস তো রে। গ্রামের মায়েরা তাদের সন্তানদের ভালো হয়ে বসতে হলে বলত - 'বাবু হয়ে' বস তো বাবা। লায়েক ছেলে ড্যাংড্যাং ঘুরে বেড়ালে বলত 'এই ভাবে বাবুগিরি করলে পেট চলবে?'


কুঁজোরও যেমন মাঝে মাঝে শখ হয় চিৎ হিয়ে শুতে, তেমনি গ্রামের কমবেশি সকলেরই সাধ হত বাবুদের মত হতে। এরকমই একজন খেটে খাওয়া দিনমজুর রোজ সকালে কোনদিন পান্তা ভাত, কোনদিন মুড়ি বা রুটি খেয়ে বাসস্ট্যান্ডের পাশে এক চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে কাজে যেত। লক্ষ্য করত সেই সব বাবুদের যারা দিব্বি চায়ে কেমন সুন্দর চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজ পড়ে দিন শুরু করে। খুব ইচ্ছে করত একদিন ওদের পাশে দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দেবে কিন্তু বাধ সাধছিল খবরের কাগজ, ওটা তো পড়ত পারবে না। সাক্ষরতা মিশনের দৌলতে সন্ধ্যের স্কুলে গিয়ে নাম সই করা শিখেছে বটে কিন্তু খবরের কাগজ পড়ার মত জায়গায় পৌঁছাতে আরো অনেক মাইল যেতে হবে।


একদিন মনের ইচ্ছের কথা স্ত্রীকে বলেই ফেলল - একটো কথা শুন ক্যেনি।

-বুলবা তবেই তো শ্যুনবো, বুলো কি বুলবা।

-বুলছি, আমাকে একদিন চা কোরি দিতে পারবি?

-ঊহ, শখ দ্যাখো ক্যেনি, বাবু এসিছে আমার, চা খাবে।

-দিবি নি? 

-দুকানে কিনি খ্যেয়ি লিও। খামুখা এক কাপ চা'র ল্যেগি হুজ্জুতি কে কোরবে।

-কিনি খাবো বুলছিস।


ঠিক করল কিনেই খাবে একদিন, চায়ের সঙ্গে খবরের কাগজ সহ ফুল-বাবু না হতে পারলেও শুধু চায়ে হাফ-বাবু তো হবে। সেদিন কাজে যাবার সময় দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে আরেকবার ভালো করে দেখেনিল কিভাবে কাপে চুমুক দিয়ে চা খাচ্ছে। বাবু-রা চলে যেতেই একটু এগিয়ে বেঞ্চে বসে বলল - এক কাপ চা দে দ্যেখি।

দোকানকার এগিয়ে দিল চায়ের কাপ, চায়ের কাপ হাতে নিতেই নিজেকে যেন কেমন যেন আলাদা লাগতে লাগল, চাপোষা গরীব চাষী যেন এক কাপে চা হাতে বড়লোক বাবু হয়ে উঠছে। চোখে মুখে আনন্দের ছাপ যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। মনে হল আজ হাতে চা নিয়ে যতটা আনন্দ হচ্ছে, গত বছর কৃষি ঋণ মুকুবের খবরেও ততটা হয়নি। অতি যত্নসহকারে কাপ তুলে ঠোঁটে রেখে একটা তুফানী চুমুক, যে চুমুকে প্রায় ৩৩০ মিলিলিটার থাম্পস-আপ সুনামী'র গতিতে মুখের ভেতরে পৌঁছে যাবে সেখানে ওই তো সামান্য এককাপ চা। ব্যাস, মুখের ভেতরে তখন একমুখ গরম চা, জিভ-তালু-মাড়ি'র যেন গনদহন চলছে, না গিলতে পারছে না ফেলতে পারছে। কেন যেন বলেছিল চোখ নাকি মনের আয়না, এ বেচারার চোখ তো মুখের আয়না হয়ে উঠেছে। চোখে যেন হড়পা বান ডেকেছে, গামছা দিয়ে সে বানের জল মুছে নিতে নিতে ভাবল বাবুরা তো দিব্বি খায় রোজ। 


ভারাক্রান্ত মনে দোকানদার কে বলল - কাজটো ভালো করলিনি, আমি গরীব ব্যুলি গরম চা দিলি!


©হাসিবুর রহমান

❤️ 3 💬 3
Read Full Post »
আড্ডা

আমর দিয়াব এবং শূন্য দশকের সেই গান

রোহণ কুদ্দুস
19 Sep 2026

গতকাল আকাবায় ছিল আমর দিয়াবের অনুষ্ঠান। আম্মানে নয়, আকাবায়। আকাবা সমুদ্র তীরবর্তী একটি শহর। বহু মানুষ বেড়াতে যান। গতকাল নাকি সারা আম্মান ঝেঁটিয়ে গিয়েছিল আকাবায়।

অনুষ্ঠানে কত লোক হয়েছিল?

আমার সহকর্মী বেশ গর্বের সুরে বললেন, "হাজার দশেক।"

আমি ব্যাজার মুখে বললাম, "মাত্র!"

--মাত্র মানে?

--আমাদের দেশে দুজন লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝগড়া করলে দশ হাজার লোক চলে আসে।

--আহ!

একটু থেমে সেই সহকর্মী বললেন, "আমর দিয়াবের একটা গান তোমার তো আজানি আছে নিশ্চয়। হিন্দিতে শুনেছি।"

আমাদের বলিউড টোকাটুকিতে বেশ পারদর্শী জানিই। তাই শঙ্কিত গলায় জিজ্ঞাসা করলাম--"কোন গান?"

তিনি নিচের গানটা শোনালেন ইউটিউবে।

মনে পড়ছে তো?


https://www.youtube.com/watch?v=RibEGESbNd4

❤️ 1 💬 2
Read Full Post »
খেলা

আম্মানে ইস্টবেঙ্গল

রোহণ কুদ্দুস
17 Sep 2026

কাল আম্মানে ইস্টবেঙ্গল এসেছিল খেলতে। AFC Champions League Two-এর লিগ পর্বের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল জর্ডনের আল হুসেন।


কিক অফ হল স্থানীয় সময় সাতটায়। আমার সঙ্গে ছিল ইনফোসিসের কিছু ছেলে। আমরা যেদিকে টিকিট কেটেছিলাম, তার ঠিক বিপরীতে মাঠের উলটোদিকে ছিল আল হুসেনের সমর্থকরা। তারা ঢাকঢোল, মাইক্রোফোন নিয়ে মাঠ মাতিয়ে দিচ্ছিল। আর এদিকে আমরা খালি গলায় ইন্ডিয়া-আ-আ ইন্ডিয়া-আ-আ।


দশ মিনিটের মধ্যেই প্রথম গোল করে দিল ইস্টবেঙ্গল। যদিও বল পজেশানে মোটামুটি আল হুসেনই এগিয়ে ছিল। কিন্তু হাফ টাইমের একটু আগে ইস্টবেঙ্গল আবার একটা গোল করে ২-০ করল। বিরতির সময় আশেপাশের ভারতীয়দের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছিল। একজন জানালেন তিনি মোহনবাগানের সমর্থক, জেরুজালেম থেকে ড্রাইভ করে এসেছেন হানিমুনে। ইস্টবেঙ্গল খেলতে এসেছে শুনে স্টেডিয়ামে এসে হাজির হয়েছেন সোজা। তারও একটু আগে অবশ্য আরও কয়েকজন বাঙালি সমর্থক দেখলাম। তাঁদের মধ্যে দুজন লাল-হলুদ পরেই এসেছিলেন।


যাই হোক, হাফ টাইমের পরেই একটা বদল লক্ষ করলাম। আমরা স্টেডিয়ামের যে ব্লকে বসেছিলাম, সেখানে আগে মাত্র একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। হাফ টাইমের পরে গুনে দেখলাম আটজন আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন। ভয় হল, খেলার শেষের মারধোর করবে না কি ওদিকে বসা সাপোর্টাররা!


যাক গে, সে দুর্গতি আর সইতে হল না। ৬০ মিনিটে কাছাকাছি গিয়ে আল হুসেন প্রথম গোল শোধ করল। আর খেলা প্রায় শেষের আগে আরেকটা। প্রথম গোলটা খাওয়ার পরে অবশ্য ইস্টবেঙ্গল তেড়েফুঁড়ে খেলছিল। কিন্তু বলের দখল সেভাবে রাখতে না পারায় বিশেষ সুবিধা করতে পারল না।খেলা শেষ হল দুই-দুই-এ। মন্দের ভালো। হেরে গেলে জর্ডানিয়ান সহকর্মীদের প্যাঁক খেতে হত। খেলা দেখতে যাওয়ার আগে বড়ো মুখ করে বলে গিয়েছিলাম -- "আমাদের স্থানীয় দল।" যদিও মাঠে বসেই চোখ চালিয়ে একজনও বাঙালি খুঁজে পাইনি সেই দলে। তবুও... ইস্টবেঙ্গল।

❤️ 1 💬 3
Read Full Post »
রম্য

কথার কথকতা

@saumenbhattacharjee545
17 Sep 2026

আমরা এগারো বারো ক্লাস কলেজে পড়েছিলাম। কলেজের বড় অডিটোরিয়ামে প্রায় শ খানেক ছেলেমেয়ে বসে পড়া শুনতাম।


সেদিন বাংলার ক্লাসে ভারি গোলমাল হচ্ছিল। বিশেষত পেছনের দিকে। প্রভাত বাবু হঠাৎ তাঁর ব্যারিটোন কণ্ঠে বলে উঠলেন "আজকের এত কথা, কোনদিন বুঝি হয়ে যাবে কথকতা"... ' কথকতা' টায় বেশ একটা টান দিয়ে। আশ্চর্য ভাবে পুরো ক্লাস এক্কেবারে চুপ করে গেল! ছোট্ট একটা কথা একশ মানুষকে ভাবিয়ে তুলল বোধহয়।


কথা ত কতই আছে। কতরকম আছে। কতভাবে যে একই কথা বলা যায়! কথাদের বোধহয় নিজস্ব একটা প্রাণ থাকে, ভাব থাকে। যিনি কথা বলছেন তাঁর ভাবের ওপরে কথার নিজস্ব একটা মাত্রা বোধহয় কাজ করে। সেটা কেমন মাত্রা, কতটা জোরালো সেটা নির্ভর করে যিনি শুনছেন তাঁর ওপরে। অর্থাৎ, কথার মালিক দুজনেই, যিনি বলছেন আর যিনি শুনছেন। ধরা যাক সহজ ভাবে কাউকে জিজ্ঞাসা করা হল "আজকাল কী করছ?" এবার তিনি এই কথাকে কেমনভাবে বুঝবেন সেটা খানিকটা নির্ভর করে সত্যিই তিনি আজকাল কী করছেন তার ওপরে।


হারামজাদা একটি খারাপ কথা। কেন এই শব্দ বাছলাম বলি। সানি দেওলের কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎই। তিনি যখন রাগে অন্ধ হয়ে খলনায়ককে এই খারাপ কথাটি বলেন, তখন যাঁরা যাঁরা শুনছেন তাঁদের সবারই রক্ত গরম হয়ে যায়। আবার ওই সানিই যখন মিষ্টি সুরেলা টানে প্রেমিকাকে জিজ্ঞাসা করেন "কেয়া কাহা উস হারামজাদে নে?" তখন যার উদ্দেশ্যে এই বিশেষণটি বলা সে নিজের কানে শুনলেও বোধহয় প্রায় গলে যায়।


কথা মনের ভাব প্রকাশের হাতিয়ার। প্রেম, স্নেহ, রাগ, ঘৃণা, ঔদাসীন্য... যে কোনো ভাব প্রকাশের রাস্তা। আবার ভেবে দেখলে ভাব গোপন করারও নয় কি? বুঁচকির কথাই ধরা যাক না! সে মুখে বলল "যাঃ" কিন্তু "হ্যাঁ" বলার ভাবটুকু গোপন রাখতে চাইল। অবশ্য শোনার মানুষ বুঝে নিল যে "যাঃ মানেই হ্যাঁ"।


কথার মারপ্যাঁচ অনেক। যাঁরা কথা বলেন এবং শোনেন তাঁরা জানেন। যাঁরা বলেন না, বলতে পারেন না, তাঁদের কি কথা নেই? যাঁরা শুনতে পারেন না , তাঁরা কি কথা বোঝেন না? সেখানে কথা হয় ইঙ্গিতে। ইঙ্গিতেই ভাব বিনিময় হয়। অবশ্য যাঁরা কথা বলতে পারেন তাঁরাও যে ইঙ্গিতে কথা বলেন না এমনও ত নয়। ছোটবেলায় অতিথির সামনে দুষ্টুমি করলে মায়ের চোখে এরকম ইঙ্গিত পাননি এমন মানুষ কম। তেমনি একটি ছোট্ট ইঙ্গিতে হৃদয় উথালপাতাল হয়ে যাওয়ার উদাহরণও কম নয়। সেই কথাগুলি নির্বাক হলেও যথেষ্ট অর্থবহ নয় কি?


আর একরকম কথা আছে যেখানে বলার ও শোনার মানুষ একই। সেটা নিজের সঙ্গে নিজের কথা। কমবেশি সবাই এরকম কথা বলে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বাক। কখনও কখনও সবাকও। নিজের সঙ্গে সবাক কথা বলার মধ্যে কোথাও একটা ছায়া ছায়া ভাব আছে বলে মনে হয়। নিজের সঙ্গে নির্বাক কথা বলাকে যদি ভাবনা বলি, তাহলে সবাক কথা বলাকে হয়ত বা যন্ত্রণা বলা চলে। যাঁরা জানেন তাঁরা বুঝবেন।


কথার কচকচি থামাই। কথকঠাকুরের কাজ ত আমার নয়! তাই কথা কথকতায় পরিণত হওয়ার আগেই ইতি টানি। তবে যে দু চার লাইন প্রলাপ লিখে রাখতে গিয়ে এত কথা ভুসভুসিয়ে উঠে এল সেটি নিচে রইল।


যখন তখন

কথোপকথন

কথায় কথার

এ অনুরণন

গভীরে থাক

থাক সগোপন।।


এ কথা ভালবাসার কথাও হতে পারে। আবার কাউকে গোপনে খারাপ কথা বলার ইচ্ছেও হতে পারে। নির্ভর করবে কে শুনছেন তাঁর ওপর।

❤️ 5 💬 7
Read Full Post »
ভ্রমণ

ফিজিতে দিন কয়েক ২

@himadrisekhardatta330
17 Sep 2026

ফিজির জন্য, সিংগাপুর টার্মিনাল-১এ, আমাদের ফ্লাইট গেট নম্বর ছিল ১০। আমাদের লাউঞ্জ ছিল, গেট নম্বর ২৫ এর কাছে। এই পুরো দূরত্বটুকু আমাদের হেঁটে পার করতে হবে। কিন্তু সিংগাপুর আধুনিক টেক শহর। তাই সামান্য হাঁটা আর বাকিটা সচল রাস্তায় ব্যালেন্স রেখে ওঠা নামা করে অবশেষে ১০ নম্বর গেটের কাছে পৌঁছে যাই। ফ্লাইট নম্বর FJ362, ফিজি এয়ারলাইন্সের বিশাল এয়ার বাস বিমান। বিমানের ভেতরে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত আইডিয়া ছিল না- যে আমরা বিজনেস ক্লাসে যাচ্ছি। এই উড়ান প্রায় ১০ ঘন্টার মত টানা - সিংগাপুর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপের *নান্ডি* বিমান বন্দরে নামা পর্যন্ত ৮৩৮২ মাইল পথ পাড়ি দেবে। অস্ট্রেলিয়ার এক্সট্রিম নর্থের খানিকটা ল্যান্ড ( যেটা Cairns এবং ডারুইন এর অন্তর্গত) ছাড়া, বাকি সারা পথটাই সমুদ্রের উপর দিয়ে। সমুদ্রের নীচে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এই যাত্রাপথের, দক্ষিণে থেকে যাবে। ইকুয়েটরের লাইন এর সাথে ১০ ডিগ্রি কোণ নিয়ে পুরো উড়ান পথ সমুদ্রের বুক চিরে - সোজা নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের গন্তব্যে।

দুপুর একটা বেজে দশ মিনিটে, বোর্ডিং শুরু হয়, প্লেনে, টিকিটের সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট অনুযায়ী। বিজনেস ক্লাসের লোক কমই ছিল - তাই আমাদের লাইন দিতে হয় নি। অবাকই হচ্ছিলাম, আমাদের আলাদা কেন ডাকল! যাই হোক,প্লেনের গেটে, হাওয়া সেবিকা বোর্ডিং পাস দেখতে চাইলে, আমি কলকাতা থেকে সিংগাপুরের পাসটা তাকে দেখাই। সে ঘাবড়ে গিয়ে কিছু একটা ইংরাজীতেই বলে - আমি বুঝতে পারি না, উচ্চারণ আর ডিকশনের কারুকার্যে। আমার মেয়ে পিছনেই ছিল - সে শুধরে দেয় আমাকে। ঠিক বোর্ডিং পাস দেখাতে, সুন্দর হেসে, আমাদের দুজনকে, নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে দেন সেই মহিলা। এই প্লেনের সেবক সেবিকা সকলেরই বলিষ্ঠ গঠন- কিন্তু ভীষণ ভাল মধুর ব্যবহার। মেয়ে সেবিকাদের একটি কানে একটি করে কাঠগোলাপ লাগানো। মেয়ের কাছ থেকে জানলাম,যে ফুলটা কোন কানে লাগাচ্ছে, মানে বাম না ডান কানে, তাই দিয়ে বোঝা যায়, সেই কর্ণফুলি মহিলাটি বিবাহিত না কুমারী। আমার নিজের দেশের মেয়েদের কথা মনে এল। সিঁদুর আছে না'কি শুখি মাঙ? কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে বিশেষ, বিবাহের পরে, এই সিঁদুর পরা নিয়ে,পারম্পরিকতার মর্য্যাদা রক্ষার কোন দায়বদ্ধতা নেই - আজকাল। তারা সুহাগন হবার অন্য যা কিছু রীতি রেওয়াজ ছিল, যা সামান্য কোথাও কোথাও এখনও কারো কারো মধ্যে বজায় আছে, সেটুকুও মানেন না। এটা ফেমিনিস্ট মতবাদ। যাই হোক, এই মান্যতা নিয়ে যদি কেউ খর্ব বোধে ক্লিষ্ট হয়, তাকে অনর্থক বুঝিয়ে ওঠার কোনও রকম তার্কিক, ধার্মিক এমন কি সাংবিধানিক কচকচি করতে চাই না। এ যুগের সব কিছুই আত্মকেন্দ্রিক। মৌলিক অধিকার নিয়ে সকলেই টনটনে জ্ঞাত/ জ্ঞাতা, কিন্তু জাত্যাভিমান বলে অবশিষ্ট আর কিছু নেই। সেটাই বেদনার।

নিজের নিজের সিট কাম শোবার জন্যে রূপান্তরিত বার্থে, জায়গা নিতে নিতেই, ডিনারে কি খাব, ড্রিংকসে কি নেব, আগামীকাল সকালে ব্রেকফাস্টে কি নেব- সব জানার জন্যে সেবিকাদের মধ্যে ব্যস্ততা চরমে উঠল। সিটের ওপরে, তিন খানা সুদৃশ্য প্ল্যাকার্ড রয়েছে - তাই দেখে, বেছে নিয়ে অর্ডার প্লেস করে রাখ। নির্দিষ্ট সময়ে, তা হাজির হয়ে যাবে।

আমাদের দুজনেরই ভেজ ডিনার ছিল - কিন্তু প্যাঁচানো পাউরুটি, স্যুপ, চানা ভাত(রাজমা টাইপ) এবং পরোটা ছাড়া, বাকি আরোও দুটো আইটেম মুখে দিয়ে মজা পেলাম না। এ ছাড়া চার রকম ফ্রুটসের চারখানা বড় বড় পিস ছিল, যা খুবই ফ্রেশ এবং সুমিষ্ট ছিল। আনারস, আপেল, পাকা পেঁপে এবং আরেকটি অজানা ফল। এর পরে কফি ছিল, যা আমরা নিই নি। আমরা ড্রিংকসও নিই নি। শ্যামল*দা সাথে থাকলে - হয়ত ভোদকা- স্প্রাইট ট্রাই করতাম। তবে সত্যি বলতে, নিজের শরীরের ওপর এখন চোখ বুঁজে ভরসা করতে পারি না। তা ছাড়া, সাথে মেয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া প্লেনের দীর্ঘ যাত্রা পথে, বেশি কিছু বলার নেই। আমার ঠিক পাশের জোড়া সিটে, বেশ বয়স্ক এক ভদ্রলোক এবং তার স্ত্রী ছিলেন। তারা কোন দেশিয় বলতে পারব না। তবে ভদ্রলোক ১০ ঘন্টার প্রথম পাঁচ ঘন্টা ড্রিংকস নিয়ে লাগাতার ব্যাস্ত ছিলেন। ভদ্রমহিলার কিছুটা হাতের কাঁপুনি ছিল -পারকিনসন্সের আরলি স্টেজ, কিন্তু উনিও কফি খেয়ে গেছেন টানা।

আর যেটা ঘটল, তা ছিল একমোদ্বিতীয়ম- আমার সিট, বেডে কনভার্ট হল না - আমারই মত দরকচা মার্কা হয়ে আটকে রইল। সেটাকে অ্যাডজাস্ট করতে, বিমানের সকল সেবক- সেবিকার শেষতম আন্তরিক প্রচেষ্টাকে কাঁচকলা দেখিয়ে, টস সে মস নেহি হুয়া। সেবকেরা লজ্জায় আধমরা হয়ে যান। ইটস পিকুলিয়র, ইট নেভার হ্যাপেনড - বারবার এই বলতে থাকেন। স্যার, এক্সট্রিমলি সরি উই আর, নো সিটস আর অ্যাভেলেবল। ইউ স্পেন্ট সো মাচ মানি - সত্যিই প্লেনে আর একটা সিটেও এমন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় নি।

এইটি ছাড়া আর কোন অসুবিধে হয় নি - যদিও, আমি ভাল মতই শুয়ে, হেলান দিয়ে বসেই, সারা পথ অতিক্রম করেছি।

ভোর চারটে ষোলতে প্লেন নামার আগে, আমাদের রাত সাড়ে তিনটেতে ব্রেকফাস্ট খেতে হল। এত রাতে, প্লেনের জানালা দিয়ে ফিজি আইল্যান্ডের কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় নি- কারণ রাত তখনও পুরোপুরি বিদায় নেয় নি। এমন কি উষাও তার যাত্রাপথে পা রাখে নি।

নান্ডিতে ল্যান্ড করার পরে,প্লেনের দরজা দিয়ে বেরোনর সময় পর্যন্ত, সেবিকার সরি, গুড মর্নিং সব কিছুর এক সাথে ঝাঁপতাল শুনে যেতে হল। ফেরার ফ্লাইটে খুব খেয়াল রাখবে, এটাও বলে ফেললো।

নান্ডি থেকে, আমাদের পরের ফ্লাইট ডোমেস্টিক। তাই এখানে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল অ্যারাইভাল উইং ছেড়ে, ডোমেস্টিক উইং- এ আসতে হল। আমার কল্পনার সাথে, ফিজি আইল্যান্ডের এই বিমান বন্দর, একেবারেই মিল খাচ্ছিল না। আমি হতবাকই ছিলাম। বিশাল এয়ারপোর্ট। আমাদের বিমান এ্যারোব্রিজে গিয়ে লাগল। ফিজি যতটা ছোট ভেবেছিলাম, তা যে নয়- প্রথম বার বুঝতে পেরে বেশ আশ্চর্য হচ্ছিলাম। নান্ডি বিমানবন্দর, ফিজির ইস্ট কোস্টে অবস্থিত। এখান থেকে ছোট ফ্লাইটে আমরা যাব সুভা(suva)। আধ ঘন্টার উড়ান। কিন্তু তার টাইম হল সকাল সাতটা দশে। ৬-ই বেরিয়েছিলাম। আজ ৮-ই এই ঘন কালো ভোরের বেলায়, আমার ঘর থেকে ১০০০০ মাইল দূরে, এক টুকরো দ্বীপের এক বিমান বন্দরে, বসে আছি, অপেক্ষা করছি, এই যাত্রার শেষটুকুকে শেষ করার জন্য। আমার পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে, আমারই ছোট্ট মেয়ে। 


বি.দ্র. ছবি সাইজের হিসাবে দিতে অসমর্থ হলাম। দু:খিত।


❤️ 2 💬 2
Read Full Post »
আড্ডা

ম্যাগিরোজিনাল

তন্ময় মুখো
16 Sep 2026

ম্যাগির বাহাত্তর হাজারেরও বেশি রেসিপি রোজ রকমারি রিল হয়ে আমার টাইমলাইনে আসে। কোরিয়ান ম্যাগি, স্যুপ ম্যাগি, ম্যাগি পকোড়া, ম্যাগি চচ্চড়ি; কী নেই। কেউ ম্যাগিতে ওয়াইন ঢালছে, কেউ দুধ; কেউ চুনোমাছ ভেজে মিশিয়ে দিচ্ছে, কেউ চিজে ঢেকে দিচ্ছে।


কিন্তু হাভাতে ম্যাগি পরিব্রাজক হিসেবে একটা কথা হলফ করে বলতে পারি। অরিজিনাল রেসিপিই ম্যাগির জগতে শেষ কথা। জলের পরিমাণ সঠিক হতে হবে, সেদ্ধ নিখুঁত হতে হবে, আর মশলা সঠিক মুহূর্তে চার্জ করতে হবে। এই সমস্ত খাপেখাপ পড়লে সে ম্যাগিতে মাখন না পড়লেও চলে; এমন তার স্বাদ।

❤️ 2 💬 6
Read Full Post »
আড্ডা

প্রথমদিনের বিপত্তি

রোহণ কুদ্দুস
16 Sep 2026

ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পরে তো অনেকেই লোটাকম্বলে আসতে শুরু করলেন। এত লোড বোধ হয় নেওয়ার জন্যে এই সাইট তৈরি ছিল না। তাই ঘন ঘন রিসোর্স লিমিট শেষ হয়ে গেছে দেখাতে শুরু করল। যাঁদের থেকে সার্ভার কেনা হয়েছে, তাদের শরণাপন্ন হলাম। তারপর চার-পাঁচ ঘণ্টা এটা-ওটা ঠুকেঠাকে দেখা গেল সাইট স্টেবল।


তা আপনার যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাঁরা কি এখন কোনও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন? আর কী কী ব্যবস্থা থাকা দরকার লোটাকম্বলে, সেটাও জানান প্লিজ।

❤️ 0 💬 6
Read Full Post »
User Name