কাল আম্মানে ইস্টবেঙ্গল এসেছিল খেলতে। AFC Champions League Two-এর লিগ পর্বের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল জর্ডনের আল হুসেন।


কিক অফ হল স্থানীয় সময় সাতটায়। আমার সঙ্গে ছিল ইনফোসিসের কিছু ছেলে। আমরা যেদিকে টিকিট কেটেছিলাম, তার ঠিক বিপরীতে মাঠের উলটোদিকে ছিল আল হুসেনের সমর্থকরা। তারা ঢাকঢোল, মাইক্রোফোন নিয়ে মাঠ মাতিয়ে দিচ্ছিল। আর এদিকে আমরা খালি গলায় ইন্ডিয়া-আ-আ ইন্ডিয়া-আ-আ।


দশ মিনিটের মধ্যেই প্রথম গোল করে দিল ইস্টবেঙ্গল। যদিও বল পজেশানে মোটামুটি আল হুসেনই এগিয়ে ছিল। কিন্তু হাফ টাইমের একটু আগে ইস্টবেঙ্গল আবার একটা গোল করে ২-০ করল। বিরতির সময় আশেপাশের ভারতীয়দের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছিল। একজন জানালেন তিনি মোহনবাগানের সমর্থক, জেরুজালেম থেকে ড্রাইভ করে এসেছেন হানিমুনে। ইস্টবেঙ্গল খেলতে এসেছে শুনে স্টেডিয়ামে এসে হাজির হয়েছেন সোজা। তারও একটু আগে অবশ্য আরও কয়েকজন বাঙালি সমর্থক দেখলাম। তাঁদের মধ্যে দুজন লাল-হলুদ পরেই এসেছিলেন।


যাই হোক, হাফ টাইমের পরেই একটা বদল লক্ষ করলাম। আমরা স্টেডিয়ামের যে ব্লকে বসেছিলাম, সেখানে আগে মাত্র একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। হাফ টাইমের পরে গুনে দেখলাম আটজন আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন। ভয় হল, খেলার শেষের মারধোর করবে না কি ওদিকে বসা সাপোর্টাররা!


যাক গে, সে দুর্গতি আর সইতে হল না। ৬০ মিনিটে কাছাকাছি গিয়ে আল হুসেন প্রথম গোল শোধ করল। আর খেলা প্রায় শেষের আগে আরেকটা। প্রথম গোলটা খাওয়ার পরে অবশ্য ইস্টবেঙ্গল তেড়েফুঁড়ে খেলছিল। কিন্তু বলের দখল সেভাবে রাখতে না পারায় বিশেষ সুবিধা করতে পারল না।খেলা শেষ হল দুই-দুই-এ। মন্দের ভালো। হেরে গেলে জর্ডানিয়ান সহকর্মীদের প্যাঁক খেতে হত। খেলা দেখতে যাওয়ার আগে বড়ো মুখ করে বলে গিয়েছিলাম -- "আমাদের স্থানীয় দল।" যদিও মাঠে বসেই চোখ চালিয়ে একজনও বাঙালি খুঁজে পাইনি সেই দলে। তবুও... ইস্টবেঙ্গল।