ওয়াটার-ফিল্টারওয়ালাটাকে বিদায় করে আবার চেয়ারে এসে বসলাম। সামনের পুজোবার্ষিকীতে ভৌতিক উপন্যাসটা দিতেই হবে। ওটাই নাকি বাজারে খাচ্ছে আজকাল। পত্রিকা সম্পাদকের চাহিদা। কিন্তু ভূত তো আমার বিষয় নয়। আমি তো সামাজিক উপন্যাস লিখি। মানুষের সম্পর্ক নিয়ে। আত্মীয়তা নিয়ে। প্রেম নিয়ে। ভূতের জগতে কি সেসব আছে? একবার ভেবলুদাকে জিজ্ঞেস করলে হয়। ভেবলুদা খুব বড় সাহিত্যিক। মনটা খুব ভালো। আমাদের মত ছোটখাটো লেখকদের খুব উৎসাহ দেন। তথ্য দিয়ে সহায়তাও করেন। শুধু একটাই মুশকিল... খুব মুডি। আপনারা তাঁকে যদিও ভেবলুদা নয়। অন্য নামে চেনেন।
করোনার বার্তা শেষ হওয়ার পর রিং হচ্ছে। মানে কলার টিউন বাজছে। আজব মুডি লোক মাইরি... এত বড় লেখকের কলার টিউন “ও লড়কি আঁখ মারে”!
-হ্যালো!
-ভেবলুদা! সৌরভ বলছি গো...
-কোন সৌরভ? কত নম্বরের?
আমারই ভুল! আমার নামে এমন কি এক পদবীতে ভেবলুদার অনেক চেনা মানুষ আছে।
-সৌরভ। ওয়ান-ডব্লু-এইচ (এক নম্বর – রাইটার – হাওড়া)
-কোথায় ছিলি এদ্দিন? দরকার ছাড়া আসতে নেই?
-একদম বেরোচ্ছি না গো।
-করোনা ধরার ভয়ে?
-জানোই তো সব। অ্যাজমার রুগী।
-বল কি ব্যাপার! ফোন করেছিস কিছু দরকার নিশ্চয়ই আছে! বাড়িতে সব ভালো তো?
-হ্যাঁ... সব ঠিকঠাক। বলছি একটা ভূতের গল্প লিখতে হবে। কি করি বলতো?
-কী আবার করবি। লিখে ফেল।
-একটু বলো না। কি পড়ব? আমি তো ভূতের গল্প লিখিনি।
-নিজের জীবনী লেখ।
-অ্যাঁ!
-তুই নিজেই তো একটা ভূত। নিজের কোনো একটা কীর্তি লিখে দে। যাকগে আমায় এখন বেরোতে হবে। ছাড়লাম।
-হ্যালো হ্যালো !
যাহ্ কেটে গেল। না... দিল। অদ্ভুত মুডি লোক মাইরি।
কী লিখি কী লিখি! ধুত্তোর। কিচ্ছু প্লট আসছে না।
মোবাইলটা বেজে উঠল।
-হ্যালো।
-সৌরভ বলছেন?
-হ্যাঁ!
-আমি কীর্তিমান দাস।
-বলুন।
-আমি আপনার পাড়াতেই থাকি। মেখলাপুরের মোড়টার দিকে।
-বেশ। বলুন কি দরকার?
-আপনাকে একবার আসতে হবে স্যার।
-কেন?
-আমার বাড়িতে একটা ছোট্ট সাহিত্যসভা করছি স্যার। আপনাকে চাই স্যার...
-সাহিত্য সভা... আমি... মানে...
-আমি জানি স্যার আপনি বিখ্যাত লেখক। প্রতি ম্যাগাজিনে যেখানে যেখানে আপনার লেখা বেরিয়েছে সব আমি পড়েছি। আপনার লেখা দুটি বইও আমার সংগ্রহে আছে। তিন নং বইটা নেই। সেটা নিয়ে একবার আসবেন স্যার প্লিজ? উপযুক্ত দামই দেব স্যার। আমি নিজেই যেতাম। কিন্তু বিশেষ কারণে অপারগ। আপনি সেটা নিজেই বুঝতে পারবেন।
-আপনাকে চিনি না, জানি না। হঠাৎ করে আমি কি ভাবে যাব? সেটা সম্ভব নয় সেটা নিশ্চয়ই বোঝেন আপনি।
-আপনি আসুন স্যার। কিচ্ছু চিন্তা নেই। প্লিজ আসুন। খুব দরকার আপনাকে।
-আমি তেমন কেউকেটা নই।
-সে বললে মানব না স্যার। একবারটি আসুন।
-হবে না।
ফোনটা কেটে দিলাম। যা ইচ্ছে সব আবদার করে। আমি এসব সাহিত্যসভায় এমনি এমনি চলে যাব? তাও আবার ফোনে এই ভাবে বললেই হল নাকি!
নাহ লেখা এখন হবে না। একটু পড়াশোনা করি।
-আহ... উহ... বেওট্টে না ... আ আ... ডালা কওট্টে...
-উফ! তখন থেকে বললাম মন দিয়ে খাও। কাঁটাটা বেছে খেতে বললাম। খেতে বসে বই পড়া চাই। দেখি টর্চটা ফোকাস করতে দাও... মাড়িতে আটকে আছে বলছ তো। দাঁড়াও চিমটে দিয়ে তুলতে দাও। ছটফট করো না।
খেতে বসে ভূতুড়ে বাড়ির ইতিহাস নিয়ে একটা বই পড়ছিলাম। মাছের কাঁটা আটকে গেছে মাড়িতে। উফ। আর মাছ খাবনা। এবার স্রেফ ডিম আর মাংস। মহা জ্বালা।
-মাছটা তো ছাড়িয়ে দিতে পারতে!
-তোমার লেডি ফ্যানেরা জানতে পারলে সম্মান থাকত? এত বড় লেখক! বউ মাছের কাঁটা ছাড়িয়ে দেয় !!!
-ইয়ার্কি কোরো না তো। এদিকে একটা ভূতের উপন্যাস লিখতে পারছি না।
-মন দিয়ে খেয়ে নাও। তারপর বইটা খুলবে।
ফোনটা বেজে উঠল।
-স্যার খেয়ে উঠে একটু ভেবে দেখুন না স্যার... একবারটি আসুন না প্লিজ।
-কে?
-আমি স্যার! কীর্তিমান দাস।
-আপনি! আপনি কি করে জানলেন আমি খেতে বসেছি!
-আন্দাজে স্যার। এখন তো সাধারণত বাড়িতে থাকা মানুষরা খেতে বসে। স্যার। একবারটি আসুন।
-আমি বললাম তো এই ভাবে আমি যেতে পারি না।
-স্যার সুযোগ থাকলে আপনাকে আমি নিজে গিয়ে আমন্ত্রণ করতাম। এক সময় আমার বাড়িতে কত সাহিত্য সভা হয়েছে। এখন আর কিচ্ছু হয় না স্যার। স্যার একবার আসুন। খুব দরকার স্যার।
-কবে? (একটু বিরক্তি ভরেই বললাম)
-আগামীকাল স্যার।
-আগামীকালই! আচ্ছা! আর কে আসবেন?
-আসবেন স্যার আরও দুইজন। নির্মল সাধুখাঁ আর অনুভূতি সরকার। আপনি তো স্যার আমার পাড়ার মানুষ। বিশেষ কারণবশত আমি নিজে যেতে পারছি না। আপনাকে নিয়ে আসা উচিত ছিল। একটু কষ্ট করে যদি আপনি নিজেই যদি আসেন খুব উপকৃত হই। প্লিজ স্যার। আগামীকাল ৬টা নাগাদ।
কি করি! পাড়ার মানুষ। রাজী হলাম।
- ঠিক আছে কাল যাব। আপনি বাড়ির ঠিকানাটা আমাকে হোয়াটস্অ্যাপ করে রাখুন।
-ঠিক আছে স্যার। ঠিক আছে। আমি এখনই আপনাকে হোয়াটস্অ্যাপ করে দিচ্ছি।
-কে গো?
-আরে কে এক কীর্তিমান দাস। সকাল থেকে জ্বালিয়ে যাচ্ছে। সাহিত্যসভা করছে। এই সামনের মেখলাপুর মোড়েই থাকে। এই করোনা পরিস্থিতিতে কারও বাড়ি যাওয়া উচিত না। তাও বার বার বলছে একবার আসুন।
-তা যাও না একবার। পাড়ার মানুষ তো। নামটা চেনা চেনা লাগছে। মেখলাপুর মোড় মানে... পোস্টাফিসের কাছে? অধিরাজ দাসের বাড়ি?
-জানি না। কে অধিরাজ দাস?
-শুনেছি দেওয়াল কবিতা লেখেন। মারা গেছেন কয়েকবছর আগে। ওই মেখলাপুর দেওয়াল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা।
-অধিরাজ... অধিরাজ... ওহ্... হ্যাঁ পড়েছি। কেষ্টার চায়ের দোকানের একটা পুরনো ছেঁড়া দেওয়াল পত্রিকা তো? সে তো খুব পাতি লেখা।
-তা হবে। তবে খুব উৎসাহী মানুষ ছিলেন নাকি। একটু পাগলাটে।
-যাকগে! কাল যাব বলেছি। গিয়ে দেখব কী ব্যাপার।
-মাস্ক পরে যেও আর একটু দূরে দূরে দাঁড়িও।
-হ্যাঁ জানি জানি। কাঁটাটা ব্যথা করছে এখনো।
-একটু পরেই কমে যাবে। বিকেলে গরম নুনজলে একটু গার্গল করে নিও।
পরদিন হোয়াটস্অ্যাপের ঠিকানা দেখে গেলাম। লেটেস্ট বইটাও একটা ছোট্ট ব্যাগে ভরে সঙ্গে নিয়ে নিলাম। যতই হোক... ফ্যান বলছে যখন... অটোগ্রাফ করে দেওয়া যাবে বেশ। সাহিত্যসভার ছবি তুলবে, ফেসবুকে দেওয়া যাবে। মেখলাপুর মোড় আমার বাড়ি থেকে বেশী দূর নয়। হেঁটে মাত্র ১৫ মিনিট। লকডাউনে সেই যে বাড়িতে বসেছি, বাড়িতে বসে বসে মোটা হয়ে যাচ্ছি। তাই হেঁটেই গেলাম। নম্বর দেওয়া বাড়ির সামনে গিয়ে ... ফোন করব? নাকি কলিং বেল টিপব? একটা টস করি? আচ্ছা কলিং বেলটাই টিপি।
কলিং বেল কাজ করল না। বাটন টেপার পর কোন আওয়াজ তো শুনতে পেলাম না। বেশ কয়েকবার করলাম। নাহ্ কোনো শব্দ নেই। খারাপ নাকি? তাহলে তো ফোনই করতে হবে।
ধুত্তোর। করোনা বার্তা শোনার পর বলে কিনা, এই নাম্বারটি সাময়িক ভাবে বন্ধ আছে। কী জ্বালা কালই তো ফোন করল। হোয়াটসঅ্যাপ দেখি। একি! লোকটা লাস্ট সিন দেখাচ্ছে গত সপ্তাহে! আজব সব। নাহ্ এতেও কিছু হচ্ছে না। কি করি?
পাশের বাড়িতে কলিং বেল টিপলাম।
দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন এক টাকমাথা ভদ্রলোক।
-কাকে চাই?
-দাদা এই পাশের বাড়ীর ভদ্রলোক আমাকে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু বেল বাজাচ্ছি কেউ খুলছে না। ফোন করছি, লাইন পাচ্ছি না। একটু দেখবেন? মানে আপনাদের সঙ্গে আলাপ আছে কিনা জানি না।
-আলাপ তেমন ছিল না দাদা। ওনার বাবা অধিরাজবাবু মারা গেছেন গত দু-তিন বছর হল। তারপর থেকেই আর... একটু ছিটেল লোক কিনা। গত কয়েক দিন দেখতেও পাইনি। বাড়ি থেকে বাজার দোকান ছাড়া বিশেষ বেরোতেন না। ইদানীং তো সেটাও সম্ভব ছিল না। বলতে পারব না। দেখুন আরো কয়েকবার ফোনেই চেষ্টা করুন।
আরও কয়েকবার ফোনের চেষ্টা করলাম। পেলাম না। ফিরে যাব? কিন্তু লোকটা যে বলল সাহিত্যসভা!
হঠাৎ দরজা খুলল। কিন্তু দরজার আড়ালে কাউকে দেখতে পেলাম না।
-ভেতরে আসুন স্যার। আসলে এই জুতোর র্যাকটা উল্টে গেল। আপনি ভেতরে আসুন।
দরজা ঠেলে ভেতরে একটা অন্ধকার সরু প্যাসেজ। তারপর একটা আলোকিত ড্রয়িংরুম। পাশে একটা পুচকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে একটা ঘর। দোতলা নয়। আর ডানদিকে রান্নাঘর বাথরুম আর একটা ঘর। ড্রয়িংরুমে একটা সোফা একটা রাইটিং টেবিল চেয়ার। আর দেওয়ালে র্যাককরে রাখা... প্রচুউউউউর বই। নাহ। একটা দেওয়ালও বাকি নেই। শুধু ছাদে ও বাবা... ছাদেও বই... না পুরোটা জুড়ে নয়। ব্যাগে করে ঝুলিয়ে রাখা আছে। এ তো দেখছি বই পাগল। বই বিক্রেতা ও লেখকদের প্রিয়পাত্র হবে এই লোকটা। কিন্তু ভদ্রলোক কোথায় গেলেন। দরজা খুলে ভেতরে এসে দেখছি কেউ তো নেই।
সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলেন ভদ্রলোক। হ্যাঁ। হোয়াটস্অ্যাপ পিপিতে যেমন দেখলাম তেমনই। মাথায় পাতলা হয়ে আসা চুল। রোগা হয়ে আসা গাল। একটা কাঁচাপাকা হালকা গোঁফ। হাই পাওয়ার চশমা। চোখের পাশটা একটা কাটা দাগ। মাঝারি হাইট। রোগা। একটু অসুস্থই মনে হল।
-কই আর কেউ আসেনি।
-হ্যাঁ। আসবেন! আপনিই প্রথম এলেন। বাড়ি চিনতে অসুবিধে হয়নি তো স্যার।
-না না, এই তো কাছেই।
-হ্যাঁ স্যার। কাছেই।
একটু চুপ করে থেকে বললেন আবার ভদ্রলোক, - স্যার! বইটা এনেছেন?
-হ্যাঁ। বলে বইটা ব্যাগ থেকে বার করে দিলাম।
-সই করে দিন স্যার। আমি মূল্য দিয়েই কিনব।
-না না ঠিক আছে। দাম লাগবে না। আপনি নিন।
-ধন্যবাদ স্যার। আমি ধন্য হলাম স্যার।
একটা সই করে বইটা দিলাম ওনাকে। ওনার মুখের আলোকিত ভাব দেখে খুবই আনন্দ পেলাম। সাহিত্যিকদের এটাই বড় পাওয়া। দামটা নিলে অবশ্য ভাল হত। কিন্তু! ভদ্রতা করে আর... যাকগে...
দরজায় ঠক ঠক শব্দ।
-ওই ওনা রা এলেন হয়ত।
কীর্তিমানবাবু দরজা খুলতে গেলেন। একটু পরে দেখি নির্মল সাধুখাঁ আর অনুভূতি সরকার দুজনেই হাজির। আমার সঙ্গে দুজনেই পূর্ব পরিচিত। ওনারা শখের লেখক। পেশাদার নন। কিন্তু বড় ভাল লেখেন। অনুভূতি সরকার তো ছোটদের জন্য অনবদ্য ছড়া লেখেন।
ওঁরা আসতে না আসতেই ওঁদের থেকেও কীর্তিমানবাবু বই উপহার নিলেন।
নির্মলদা এগিয়ে এলেন – আরে সৌরভ যে! কী খবর? কেমন আছিস?
স্বল্পভাষী অনুভূতিও এগিয়ে এসে কুশল সংবাদ নিলেন।
- কীর্তিমানবাবু। আমরা এই চারজনেই? নাকি আরও লোকজন আসবে?
-আর কেউ আসবে না বোধহয়। বিশেষ কাউকে বলিনি। কয়েকজনকে বলেছিলাম কিন্তু তারা উৎসাহ দেখায়নি। আপনারা বসুন। আমি একটু উপর থেকে আসছি। বইগুলো নিয়ে উনি উপরে চলে গেলেন।
আমরা কথা বলতে থাকলাম। নির্মলদা আড্ডাবাজ লোক। এত কম লোকের সাহিত্যসভা বলা চলে কি? শুধু আড্ডা বলা চলে।
কিন্তু... তারপর?
কথা বলতে বলতে খেয়াল করিনি। প্রায় আধঘণ্টা হয়ে গেল কীর্তিমানবাবু উপরের ঘরে গেলেন। এখনো এলেন না তো?
-কীর্তিমানবাবু কোথায় গেলেন?
-কীর্তিমানবাবু!
-ও দাদা। কিছু অসুবিধা হল নাকি?
কোনও উত্তর নেই।
একবার উপরে গিয়ে দেখবে নাকি নির্মলদা। দেখছি তো উনি একা থাকেন। যদি মাথা ঘুরে গিয়ে থাকে।
চল তো দেখি একবার।
আমরা উপরে গেলাম।
দরজাটা বন্ধ।
ঠেলতে গেলাম। খুলল না।
আবার ধাক্কা দিলাম। নাম ধরে আমরা তিনজনেই ডাকলাম। নাহ কোন উত্তর নেই।
কী করি?
দরজা ভাঙব নাকি?
নির্মলদাই দরজায় ধাক্কা দিলেন।
আশ্চর্য! এবার দরজাটা খুলে গেল।
না, কেউ ভেতর থেকে খুলে দিল না। এমনিই খুলে গেল।
গন্ধটা তখনই নাকে এল।
একটা পচা গন্ধ।
ঘরে একটা দেহ। পচাগলা। মুখটা হালকা আলোয় দেখলাম।
কীর্তিমানবাবু!
কিন্তু!
এ কী করে সম্ভব?
আমরা দৌড়ে উপর থেকে নিচে, নিচে থেকে বাইরে বেরিয়ে এলাম। হই হল্লা করে প্রতিবেশীদের ডাকলাম! পুলিশ...
বাবা মারা যাওয়ার পর উনি একাই থাকতেন। বিয়ে করেননি। একটু পাগলাটে গোছের ছিলেন। বইপত্তর নিয়েই থাকতেন। পাড়া প্রতিবেশীরা ওনাকে এড়িয়ে চলত। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে আরো একা হয়ে গিয়েছিলেন। তাই উনি মরে পড়ে ছিলেন একা। কেউ জানতেও পারেনি।
তাই কি উনি আমাদের এই ভাবে... মৃত্যুর পরেও প্রিয় লেখকদের বই সংগ্রহ করলেন।
কিন্তু আমাদের সব কিছু শুনে কেউ বিশ্বাস করল, কেউ করল না। কিন্তু আমরা স্পষ্ট দেখেছিলাম... দেহের পাশে রাখা ছিল আমাদের সইকরা তিনটে বই।