হোয়া তে কত রকম লেখা পত্তর ঘুরে বেড়ায়! পড়তে বেশ লাগে। আমি ফাঁকিবাজ সংসারী। কাজের মধ্যে দুই, না না, খাই আর শুই না, রান্না করি আর খাই, কাজেই আমার কাছে অঢেল সময় মোবাইলের জগতে ঘুরে বেড়ানোর।
মাত্র গোটা দশেক গুড মর্নিং পাঠানোর পর আমার সকাল শুরু। সেটা ঘুম চোখে করলে হবে না তাই বলে। শাশুড়ি মায়ের টা শ্বশুর বাড়ির অন্য কাউকে পাঠানো যাবে না, কাকা এবং অন্যান্য বয়স্ক আত্মীয়বন্ধুদের ভগবানের ছবিযুক্ত গুডমর্নিং, ফুল ভালবাসা মানুষটিকে ফুলসহ গুডমর্নিং, আবার শিলিগুড়ির গ্রুপ এ থাকা শিলিগুড়ির বন্ধুকে গ্রুপে পাঠানো একই ছবি পাঠানো যাবেনা, স্বামী-ইস্তিরির আঁশটে গন্ধওয়ালা উইশ আবার পঞ্চাশোর্ধ দূরের বান্ধবীকে পাঠানো যাবেনা, যাঁর সাথে ফেসবুকে আলাপ...এসব নানান ব্যাপার। হোয়া আমার মতো বেকার, ফোন সর্বস্ব মানুষদের জন্য খুব উপকারী।
তো যে কথা বলার জন্য এত ভণিতা, দিদি শাশুড়ি অনেক মিম এবং অণুগল্প পাঠিয়েছিলেন। তার রিপ্লাই আমি দিলাম সুদূর ব্যাঙ্গালোর থেকে ভেসে আসা ততোধিক হাস্য উদ্রেককারী লেখা ফরোয়ার্ড করে দিয়ে। এই তো করি। এদিকের টা ওদিকে, ওদিকের টা এদিকে। তা, স্বামী স্ত্রীর নির্ভেজাল সম্পর্কের ওপর তারাপদ রায়ের এক গপ্প পড়ে দিদি শাশুড়ি বললেন, 'হ্যাঁরে, স্বামীরা বোধহয় খুব ইনসিকিওরিটিতে ভোগে.......!' তার উত্তর দেওয়ার লোভ আর সামলাতে পারলাম না, 'কিসের ভাত বসানো, কিসের কি! আগে তো টাইপ করি' এই মনোভাব নিয়ে মোবাইল আঁকড়ে বসে গেলাম। তিনি বসার ঘরে অফিসে। সোফায় বসে ইতালির মিচেল কে নেদারল্যান্ডস এ পাঠানোর তোড়জোড় করছেন হায়দ্রাবাদের সঞ্জুর সাথে পরামর্শ করে! এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর রেপ্লিকায় থেকে বেশীক্ষণ মোবাইলে চোখ রাখলে পাপ বোধ হয়। তাই বারান্দায়, রোদ্দুরে চলে গেলাম টুক করে। উত্তরটা পরের প্যারায়।
"না না! কিসের ইনসিকিওরিটি! বিয়ে হয়ে যাবার পর বরং মেয়েটারই গরজ স্বামী এবং তার পরিবারকে তুষ্ট করে রাখা। অন্যরকম হলেই আমরা মেয়েটাকে বাঁকা চোখে দেখি।" শাশুড়ির নাতিটিকে যে আদরে-বাদরে রেখেছি সেটা বোঝাতে হবে। “তবে বয়সের সাথে সাথে স্বামীর চরিত্রের পরিবর্তন হয় বলে মনে হয়। যা দেখে বড় হয়েছি আর কি! বিয়ের পর মা আর বউ এর মাঝে পড়ে দিশেহারা স্বামী, মা-বউ এর ঝামেলায় অতিষ্ট স্বামী, মায়ের কড়া শাসনে দড়কচড়া হয়ে যাওয়া ভীতু স্বামী, সুন্দরী বউ এর প্রেমে ডুবে থাকা গদগদ স্বামী, বস্ এর কাছে চাপ খেয়ে বউকে ট্রিপল চাপ দেওয়া জানোয়ার স্বামী, বড়লোক বাবার দজ্জাল মেয়ের শহীদ স্বামী, মায়ের কাছে আশ্রয় পাওয়া বেচারা স্বামী, বউ-মা উভয়কে জ্বালিয়ে খাওয়া অপোগন্ড স্বামী....আরো কত! অষ্টত্তর শতনাম হয়ে যাবে। এরা হলো সব ইয়াং স্বামী। এর পর আসে পরিণত স্বামী। এরা সংসারের ঝামেলা পাঁকাল মাছের মতো এড়িয়ে চলতে শিখে গেছে। মা আর বউ নিয়ে দিব্যি পিং পং বলের লোফালুফি। স্বামীরা এখন বেশ চালাক। তারা 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' মন্ত্র অ্যাপ্লাই করে দিন কাটায়। খেতে বসে রাত্তিরে মায়ের কাছে গোপনে বউএর চাট্টি নিন্দে করে ধপাস করে বিছানায় পড়ে বউকে চকাস চুমু। 'সোনা গো, সারাদিন খুব ধকল গেছে' বলেই নাক ডাকিয়ে ঘুম। স্বামীর বাবা সংসারে থাকেন 'বাবা রামদেব' হয়ে, মোহমুক্ত, তবে মধুমেহ নিয়ে। এভাবে বছর দশেক ফ্রুত! তার মাঝে যে কখন ছেলে পুলে, আন্ডা বাচ্চায় ঘর ভরে যায় কেডা খপর রাখে! স্বামীর দায়িত্ব বাড়ে, সেই অনুপাতে বাড়িতে থাকার সময়ও কমে। স্বামী বাইরে এগরোল সাঁটিয়ে দিব্যি সোনামুখ করে আলুচচ্চড়ি আর রুটি খেয়ে শুয়ে পড়ে। আর অবসরের পর স্বামীর আরো কত রূপ! সারাজীবন হাড়জ্বালানে কেউ হয়ে যায় আঁচলধরা ন্যাওটা, আবার কারো বাড়ে কুলোপানা চক্কর! তবে ঐ ফোঁসফোঁসানিই সার। বিষদাঁত ঘষে ক্ষয়ে গেছে কবেই। বেশীরভাগ স্বামী তখন চরম বউ ভক্ত। শীতের রাতে গুটিসুটি মেরে বউএর কাছে গান ধরে, 'আমরা দুটি ভাই, শিবের গাজন গাই', বাতে ধরা বউ তখন দুবলা পায়ে লাথি মেরে স্বামীর মাজা ভাঙবে নাকি 'আহা, প্রাণনাথ' বলে থুতনি ধরে উড়ো চুমু খাবে সেটা তার ব্যাপার।"
দিদি শাশুড়ি পড়ে বিশাল মজা পেলেন। হাসির ইমোজি আর সাধুবাদ পেয়েছি।🤭😁😁 আর 'তিনি' পড়ে কি বলবেন সে দেখা যাবে। রেগে মেগে মঙ্গলগ্রহেও পাড়ি দিতে পারেন। আর একটা কথা বলে বিদেয় হচ্ছি। অনেক কাল আগে যখন প্রাত্যহিকীতে লেখা পাঠাতাম তখন অনেক জায়গা থেকে চিঠি, লিট ম্যাগ আসতো। একবার এলো একটা ছোট কাগজ। চারপাতার। কাগজের শিরোনামে লেখা 'পীড়িত পুরুষ পতি পরিষদ'! আমার কাছে কেন এসেছিল জানিনা! তখন অবিবাহিত, পীড়ন টীড়ন কাউকে করিনি মোট্টে! পরের বার শিলিগুড়ি গেলে খুঁজে নিয়ে আসব'খন। তখন কেউ চাইলে দিতে পারবো। ততদিন একটু ধৈর্য ধরে থাকুন। রাগ টাগ করবেন না যেন!