মা বলতো ‘আপ রুচি খানা, আর পর রুচি পরনা’ মেয়ে বলে, ‘মাই বডি, মাই চয়েস’ আর আমি বলি, ‘কমফোর্ট ফুড, আর ইনভিজিবল ক্লোক’। ঘরে একা থাকতে ভালো লাগেনা বলে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। গুচ্ছের বেরি দেখলাম। লাল, খয়েরী, কমলা, হলুদ, নীল, কালো। সব এডিবল কিনা বলতে পারবো না। দেখলাম। ছবি তুললাম। হেঁটে হেঁটে হাঁটু ব্যথা হলে একটু ছায়া ছায়া খুঁজে বসেছিলাম। ছায়া নয়। ছায়া ছায়া। মেঘ সরে গেলে হালকা রোদ আসছিল। ডাক্তার বাবু বলেছেন ‘ডি’ খেতে। সকালে রান্না বান্না করে ল্যাদ খাই, তাই রোদ খাই দুপুরে। খেয়ে দেয়ে পাড়া বেড়ানো। মাথার মধ্যে নানান কথা, শোনাবো কাকে?
মেয়েটা কত দূরে! সে সিনে প্রেমী। প্রচুর সিনেমা দ্যাখে এবং উপযুক্ত সময়ে ডায়ালগ বসায় কথায়। বলে “মা, ‘জিন্দেগী লম্বি নেহী, বড়ি হোনি চাহিয়ে!’ জানো কোন সিনেমার?” আমি বলি হুম্। তা, এখন এই বেঞ্চ এ বসে ভাবছি, আমার এই লঅঅঅঅমবা জীবনটা নিয়ে আমি কী করবো? ভাবতে ভাবতে কুরুশ কাঁটা বার করি। দুটো লাইন বুনি আর মানুষ দেখি। সাদা, কালো, বাদামী, হলুদ। দেখি আর ভাবি, আচ্ছা, ঐ যে দক্ষিণ এশিয় মেয়েটি পুতুলের মতো দুটো কুকুর নিয়ে বসে আছে শান্ত হয়ে ও কি আমার মেয়ের বয়সী? ওর মা ওকে বসিয়ে ব্যাঙ্ক এ ঢুকে গেছে পনের মিনিট হতে চললো। ও বেশ হালকা পোশাকে আছে। ইয়াং ব্লাড। আমার মেয়েও বলে, ‘আরে মা, জ্যাকেট লাগলে পরে নেব, আমার ঠান্ডা লাগে না অত!’ আমার পাশে আপাদমস্তক ঢাকা চাপা দেওয়া একজন বসে আছেন। হাতে লাঠি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এলেন। বোঁচকা ও আছে সাথে। সত্যি! অনেকদিন পর ইনফ্যাক্ট এমন বোঁচকা দেখলাম। চকচকে রেশমী সবুজ কাপড়ে হলদে ফুলের ছাপা। মামাবাড়ি থেকে ফেরার সময় দিদা বোঁচকায় বেঁধে ক্ষুদের চাল দিত। দিদার শাড়িতে, ট্রাঙ্কের কাঁথায় কেমন একটা ইতিহাস ইতিহাস গন্ধ লাগতো। এখন আমার মেয়ে বলে, “মা তোমার গা থেকে কেমন দিদা দিদা গন্ধ বেরোচ্ছে! অ্যাঁআআআ…আমার সোনা মা টা বুড়ো হয়ে যাচ্ছে!” ভাবনার লাগাম নেই। নিমেষে এক গ্রাম থেকে আর এক গ্রামে তবে কেন্দ্রে সেই মেয়ে! ও কলেজ চলে যাওয়ায় আমার দিন রাত যেন পঞ্চাশ ঘন্টার!
দুপুরের খাবারটা ভালো হয়নি। তাই ঠান্ডা মেরে গেছি। দেখতে যতই পত্রিকার রেসিপি পৃষ্ঠার মতো হোক না কেন, খেতে বসে জাবর কাটলাম! দেখুন ছবি।