#উল্টো
ছোটবেলায় আমি পড়তে বসার সময়ে কেন জানিনা আলোর দিকে পিছন করে বসতাম। পিসিমা বলতেন 'উল্টোপোঁদা' ছেলে। পরে পরেও অনেক উল্টো উল্টো কাজ করেছি। ভেবে দেখেছি আমার স্বভাবটাই উল্টো। প্রায়ই যা করার কথা তার উল্টোটা করে বসি। এতে অনেক উল্টো ফলও হয়। তাতে কী? স্বভাব বদলায় নাকি?
এরকম একটি অভ্যাস উল্টো করে কথা বলা। সেই ছোটবেলায় শোনা কে যেন একটা 'রাম' বলতে পারত না বলে তাকে 'মরা' বলতে বলা হয়েছিল। ত সেই 'মরা মরা' বলতে বলতে সে রাম বলতে শিখে গেল। উল্টো কাজ করলে যে তার ফল সবসময়ই উল্টো হবে তা নয় তালে। যা হোক, আমার এই স্বভাবটি আছে। ছোট থেকে শুরু, কিন্তু আজও এই বুড়োবেলায়ও আছে। 'খাবার' উল্টো করলে হয় 'রবাখা'। কিন্ত না, আমার প্রসেসে বললে সে ' বারখা', অর্থাৎ উচ্চারণ করার সময়ে বার বার এটি বললে মূল শব্দটি পাওয়া যাবে। 'রবাখা' তে যা পাওয়া যাবেনা 'বারখা' তে সেটি পাওয়া যাবে। আপনারা বলে বলে পরখ করতে পারেন।
বেশ কথা। এই উল্টো দুনিয়ায় আমার প্রিয় হল গান। ধরুন গাইলাম 'বনেজী রেযা মিতু ওনিদা লামা'। কিছুই বুঝবেন না। তবে সুর শুনে বুঝবেন 'জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা' গাইছি। আজ্ঞে হ্যাঁ। সুর উল্টো করে অবশ্য গাইতে পারিনা। সে চেষ্টায় আছি। এখন পর্যন্ত 'সারেগামাপাধানিসা-সানিধাপামাগারেসা'র বেশি পারিনি। মানুষ এসব শুনে, দেখে আশ্চর্য হন, স্তম্ভিত হন, আমাকে পাগল ভাবেন। এর মধ্যে আমার স্ত্রী এবং কন্যাও আছেন। কিন্তু ওই। স্বভাব। এমনও হয়েছে যে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে গিয়ে হেঁড়ে গলায় গান ধরেছি 'মারতো খানাই দ্যা এর মারতো খানাই দ্যা' আর পাশে দাঁড়ানো গাড়ির কাচ নামিয়ে কেউ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি সুরটি চিনেছেন। কিন্তু 'তোমার দেখা নাই রে' র জায়গায় যা গাওয়া হচ্ছে তা বুঝতে পারেননি। এ হামেশাই ঘটে। বাড়িতে ত প্রায় রোজই। এই ত আজকেই উচ্চ স্বরে গান ধরেছিলাম' য়সব মারআ খেরমু খায়রে খায়শে জবআ কোণমিতিত্রি', তা গিন্নি তার থেকেও জোর গলায় বললেন "তোর বয়স খালি মুখের রেখায়ই ত্রিকোণমিতি শিখবে নাকি কাজে কর্মেও কিছু বোঝা যাবে?" অগত্যা সঙ্গীত বন্ধ করতে হল। এখানে বলে রাখি, এতদিন ঘর করতে করতে গিন্নি আমার উল্টো স্বভাবটি বুঝে গেছেন এবং আমার উল্টো কথাগুলি ভালই বোঝেন।
যা বলছিলাম। উল্টো সবসময় যে উল্টো তা নয়। অনেক সময়েই অনেক উল্টো ব্যাপার স্যাপার অনেক কিছু সোজা করে দেয়। ধরা যাক খুব ঝগড়া হচ্ছে। এই সময়ে এক পক্ষ উল্টো পথ ধরে দু পা পিছিয়ে গেলেই ঝগড়া থেমে যায়। সেটাই করে ওঠা মুশকিল। সাইকেল চালাতে চালাতে চেন পড়ে গেলে দুবার উল্টো দিকে প্যাডেল ঘোরালেই চেন আবার স্বস্থানে ফিরে আসে। সময়মত উল্টো কাজটা করতে জানা জরুরি। সেটা সবাই পারেনা।
উল্টোর দিনকাল নতুন নয়। কারা যেন মাঝে আওয়াজ তুলেছিলেন 'উল্টে দেখুন পাল্টে গেছে'। তাতে অবশ্য ভাল হয়েছিল না মন্দ তা বলতে পারিনা। রায় মশায়ের বুড়ো বলেছিল বয়স নাকি চল্লিশের পর আবার উল্টো দিকে গুনতি শুরু করে। ভাবুন দেখি কী 'তিকসাংঘা' ব্যাপার! এই দেখুন আপনিও এখন অল্প অল্প উল্টো কথা বুঝতে পারছেন।
যা হোক, উল্টো সবসময়ে ভাল না। যাকে 'থ্যাঙ্ক ইউ' বলার কথা তাকে 'স্ক্রু ইউ' বলে দেওয়াটা কোনো কাজের কথা নয়। তেমনি চিরকাল আপনি ভাল মানুষ হয়ে থাকলেন, আর লোকে ভাবল ওই ভালমানুষি আসলে ভালমানুষি নয়, ওটা আপনার দুর্বলতা, সেটাও কোনো কাজের কথা নয়। সময়ে সময়ে উল্টো খেলুন। সবসময় নয়। উল্টে কথা বলুন, উল্টে গেঞ্জি পরুন ঠিক আছে। কিন্তু রাস্তার উল্টো দিকে গাড়ি চালাবেননা। সুন্দরী মহিলা দেখলে, যাকে দেখে একটু ইয়ে ইয়ে হল, তার গোড়ালি উল্টো দিকে কিনা তা অবশ্যই দেখে নেবেন। না হলে চাপ হতে পারে।
যাক, আজ আর বাজে বকবনা।
'বাইস লভা বেনথাক'।